প্রবাসীদের বিনিয়োগের স্বীকৃতিতে সিআইপি কার্ড পেলেন ১০ জন

দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে না পারলে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। আপনারা বিনিয়োগ করলে তখন আমরা বিদেশ থেকে লোক নিয়ে এসে চাকরি দেব। আপনারা আপনাদের টাকা দেশে বিনিয়োগ করে দেশের বেকার মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। তাহলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত হবে। বিদেশে চাকরি করে নিজের ভাগ্যের কিছুটা উন্নয়ন করা যায়। সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের দেশে বিনিয়োগ করতে তিনি আহ্বান জানান। মঙ্গলবার বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ (সিআইপি) অনাবাসী ১০ বাংলাদেশীর হাতে কার্ড তুলে দেয়ার সময় তিনি এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকলে আমার কাছে আসবেন। আমি সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সক্ষম হব। দূর করতে না পারলে পদত্যাগ করে চলে যাব। দেশের অর্থনীতিতে অনাবাসী বাংলাদেশী প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছরের মতো এবারও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০১৪ সালের জন্য ১০জন বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সিআইপি ২০১৪ কার্ড প্রদান করেন। সিআইপি ২০১৪ কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী বলেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে এসব কর্মী পরিবার পরিজন ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। প্রবাসী বাংলাদেশী এবং প্রবাসী কর্মীদের অমানুষিক পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৫,৩১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ১৩ শতাংশের সমতুল্য। প্রবাসী বাংলাদেশী এবং প্রবাসী কর্মীদের এ অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিসরূপ আজ যারা সিআইপি কার্ড পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে ৩ জন, তার মধ্যে ২ জন একই পরিবারের। ওমান হতে ৩ জন, যারা স্বামী-স্ত্রী ও ভাই এবং ইতালি হতে ৩ জন যার মধ্যে ২ জন ভাই এবং বাহরাইন হতে ১ জন নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে ৪ জন মোহাম্মদ কামাল পাশা, মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, মোছাম্মৎ সাজেদা নুর বেগম ও মোহাম্মদ শফি উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামে। মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান ও মোহাম্মদ অলিউর রহমানের বাড়ি সিলেটে। মোহাম্মদ ইদ্রিছ ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। আবুল কালামের বাড়ি কুমিল্লায় এবং ওহিদ মোল্লার বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।
বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আবেদনকারীরা আগামী বছর ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি তাদের আবেদন এ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারবেন। প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ মন্ত্রণালয়ের পরিবারের সদস্য। মূলত তাদের কল্যাণের জন্যই এ মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি। তাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ এ সুবিধা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে ওমান ও দুবাই এ টোল ফ্রি টেলিফোন লাইন চালু করা হয়েছে। এতে সহজে প্রবাসী কর্মীরা বিনা ফিতে সহজে তাদের মিশনে বিভিন্নœ প্রয়োজনে টেলিফোন করতে পারছে। আগামীতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সুবিধা আরও কিছু দেশে সম্প্রসারিত করা হবে।
মন্ত্রী নির্বাচিত সিআইপি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের এ অবদানের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মোঃ ইফতেখার হায়দার। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ সংবাদ কর্মীরা।
এদিকে বিকেলে আর একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের কল্যাণ ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ব্রিফিং সেন্টারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ২৫ বছর পূর্তি (রজতজয়ন্তী) অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এক কোটি প্রবাসী কর্মীর কল্যাণের গুরুদায়িত্ব ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে কর্মীদের দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছ উপায়ে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বোর্ডকে কর্মীদের কল্যাণে অত্যন্ত আধুনিক ও ডিজিটাইজড বোর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা হবে। প্রবাসী কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প যেমন- প্রবাসী পল্লী, হাসপাতাল, বোর্ডের অধীনে বিশেষায়িত বীমা কোম্পানি, প্রত্যাগত কর্মীদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, বিদেশ গমনের পূর্বে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা হচ্ছেন এ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে সৌভাগ্যমান মানুষ। আপনারা এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন যেখান থেকে সারা দেশের সকল প্রান্তের এতিম ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারছেন। এ মহৎ কাজে আপনাদের সঙ্গে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মোঃ ইফতেখার হায়দার, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামছুন নাহার এবং বায়রার সভাপতি মোঃ আবুল বাসার।