এক বছরে অভিবাসন ঋণ বেড়ে দ্বিগুণ

এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের (পিকেবি) অভিবাসন ঋণ বিতরণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে ব্যাংকটি ছয় হাজার ৩২৭ জন বিদেশগামী কর্মীকে সাড়ে ৫৮ কোটি টাকার অভিবাসন ঋণ দিয়েছে। ২০১৪ সালে পিকেবি তিন হাজার ৯৬৪ জনকে ২৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করে।

পিকেবি সূত্র জানায়, এসব শ্রমিক ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশে গেছে। এর পাশাপাশি এ সময়ে দেশে ফেরত আসা ১৮ জন শ্রমিককে ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার পুনর্বাসন ঋণ দিয়েছে।

পিকেবির অভিবাসন ঋণপ্রবাহ বাড়া প্রসঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশাররাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিশেষায়িত কার্যক্রম নিয়ে শুরু হওয়া এই ব্যাংকটি জনশক্তি রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আমরা ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছি।’ তিনি জানান, বিভাগীয় শহর ছাড়াও বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব জেলা শহর মিলে পিকেবির ৪৯টি শাখা রয়েছে। এর প্রত্যেকটি শাখাকে বার্ষিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ঋণ বিতরণ বাড়ার পেছনে এটি বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।

মোশাররাফ হোসেন আরো বলেন, যেসব বিদেশগামী শ্রমিক ঋণের আবেদন করে, তাদের প্রত্যেককে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তহবিল সম্প্রসারণ হলে আগামীতে আরো বেশি সংখ্যক শ্রমিককে ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোশাররাফ হোসেন বলেন, বিদেশগামী কর্মীরা প্রতিদিন ঋণের আশায় ব্যাংকে আসছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে এসব কর্মীকে স্বল্প সুদে এক সপ্তাহের মধ্যে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হয়।

এদিকে গত বছর ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়ের পরিস্থিতিও বেশ ভালো। এ সময়ে ঋণ আদায়ের হার ছিল ৮০ শতাংশ। আলোচ্য বছরে মোট ৩২ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে।

অভিবাসন গমনেচ্ছু শ্রমিকদের আগে ৮৪ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হলেও গত বছর থেকে এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এখন একজন বিদেশগামী কর্মীকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশ গমনেচ্ছুদের জামানতবিহীন ঋণ এবং প্রত্যাবর্তনকারী বাংলাদেশিদের পুনর্বাসন ঋণ সহায়তা দেওয়ায় লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যাত্রা শুরু করলেও ব্যাংকিং শুরু করতে বেশ সময় লেগে যায়। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকটি পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র ৯ শতাংশ সুদহারে বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকরা পিকেবি থেকে ঋণ পাচ্ছে।

মোশাররাফ হোসেন বলেন, অধিক সংখ্যক শ্রমিককে ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তহবিল সংগ্রহে শ্রমিক আমদানিকারক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক শ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশেষায়িত এই ব্যাংকটি অচিরেই বৃহৎ পরিসরে অভিবাসীদের দোরগোড়ায় কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।