বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

এগিয়ে চলছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ। রানওয়ে সম্প্রসারণ, মাটি ভরাট, ভূমি উন্নয়ন এবং ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। গত বছরের ২ জুলাই গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোরিয়ান কোম্পানি ‘হল্লা করপোরেশন’-এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব। তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রানওয়ের লাইট সরিয়ে সারা রাত উন্নয়নকাজ করা হয়। পরদিন সকাল ৬টায় আবার সেগুলো স্থাপন করা হয়। ৪ জানুয়ারি থেকে এভাবে পুরোদমে কাজ চলছে।

সূত্রমতে, প্রথম পর্যায়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিতকরণ ও প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হতে লাগবে ৩০ মাস। পুনর্বাসনকাজের জন্য ব্রিজ নির্মাণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধসহ প্রথম ধাপের উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বোয়িং-৭৭৭-সহ বৃহদাকারের বিমান ওঠানামা করতে পারবে। বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হবে। রানওয়ের শক্তি বাড়ানো হবে। প্রস্থ বাড়িয়ে ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হবে। স্থাপিত হবে নতুন ডিভিওআর, ডিএমই, আইএলএস, এয়ার ফিল্ড লাইটিং সিস্টেম। রানওয়ের লাইটিং সুবিধাও বাড়ানো হবে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দরকে বড় আকারের বিমান ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পর্যটনশিল্পকে বিকশিত করা, সমুদ্রসীমা রক্ষা, কক্সবাজারের উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে সুপরিসর বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনা করে। উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে বিমানবন্দরের গুরুত্বও বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। প্রকল্পের স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসাইন লি.’র নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মানিককুমার বিশ্বাস বলেন, কাজের মানের ব্যাপারে কোনো আপস নেই। আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেই বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ চলছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধনকুমার মোহন্ত বলেন, দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান শহরের মধ্যে সুপরিসর বিমান চলাচল সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সুপরিসর বিমান চলাচল উপযোগী আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে উন্নীত করতে প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। এ কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।