পাঁচ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৭৫% সঞ্চয়পত্র বিক্রি

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। গত নভেম্বরের মধ্যেই সরকার এ খাত থেকে ১১ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে। যা এ খাতের লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ শতাংশেরও বেশি। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ায় সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ধার করেই প্রয়োজনীয় খরচ মেটাচ্ছে। অবশ্য এ চিত্র একেবারে নতুন নয়। আগের অর্থবছরের বাজেটে সরকার যেখানে সঞ্চয়পত্র থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ করবে ভেবেছিল, বছর শেষে তা বেড়ে ২৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকায় ঠেকে। এর আগের দুই অর্থবছর যথাক্রমে ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা এবং ৭৭৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে মোট চার হাজার ২৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। গত ২৩ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানোর পর তা তিন হাজার ৯০৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। এরপর কয়েক দফা ওঠানামা হলেও গত নভেম্বরে বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৩২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। প্রতিদিন যে টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় তা থেকে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের সুদাসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকেই নিট বিক্রি বলে হিসাব করা হয়। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদাসল পরিশোধের পর কোষাগারে যেটা জমা থাকে সেখান থেকে নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় খরচ করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্নক তিন হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আগে যে ঋণ নিয়েছিল সেই ঋণের সুদাসল বাবদ তিন হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা এই সময়ে শোধ করেছে।