‘বিদ্যুৎ উত্পাদন বাড়ানো হচ্ছে’

সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে উত্পাদন আরো বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি। তিনি বলেন, ‘সরকার এ বছরের মধ্যে দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করবে। এ জন্য চলতি বছরের মধ্যে নতুন ১৬টি কেন্দ্রে উত্পাদিত প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে যাচ্ছে। ফলে নতুন এই বিদ্যুতের সঙ্গে বিদ্যমান ১১ হাজার ২৭১ মেগাওয়াট যোগ হলে উত্পাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ হাজার মেগাওয়াট।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের মার্চ মাসে দেশে বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতা ছিল ১০ হাজার ৪৭১ মেগাওয়াট। বর্তমানে উত্পাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৭১ মেগাওয়াটে। এ সময় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উত্পাদন হয়েছে সাত হাজার ৫৭১ মেগাওয়াট। গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ লাইন বেড়েছে ২২ হাজার কিলোমিটার। এক বছরে ছোটবড় ৯টি নতুন বিদ্যুেকন্দ্র উত্পাদনে এসেছে। এ সময় ৪০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের টার্গেট আরো বাড়াতে হবে। এখন আমরা গ্রাহক পর্যায়ে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি, এটা বিদেশে ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট। মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের উত্পাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

গত মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এর সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আকিজ সিমেন্ট মুক্তবাক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন। সাংবাদিক রাহুল রাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও দৈনিক দিনকালের সম্পাদক সাংবাদিক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় দফায় দুই বছর পূর্তি উৎসব করছে। এই সময়ে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী রাজনীতিকরা বিভিন্ন কথা বললেও উন্নয়নকেই সরকার বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গত সাত বছরে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতা যেখানে ছিল তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট, বর্তমানে ১১ হাজার ২৭১ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এই লক্ষ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ উত্পাদন বৃদ্ধির টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ উত্পাদন যেখানে রেখে গিয়েছিল, পরের বিএনপি সরকার এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও বাড়াতে পারেনি। বর্তমান সরকারের আমলে ৪০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে এক কোটি ৭০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক আছে। কৃষিকাজে নিয়োজিত সেচ গ্রাহকের সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজার। এক বছরে মোট সেচ গ্রাহক বেড়েছে ২২ হাজার। গত বছর বিদ্যুৎ সেক্টরে সামগ্রিক সিস্টেম লস ছিল ১৩.৭৫ শতাংশ। এক বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.০৩ শতাংশে।’

আলোচনার এ পর্যায়ে সাংবাদিক রেজোয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকার শুধু উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু দেশে সুশাসনেরও প্রয়োজন আছে। একটি গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে গণতন্ত্র পুরো প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সরকারকে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

জবাবে অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই বা নির্বাচনই একমাত্র গণতন্ত্র মাপার মাপকাঠি তা এককথায় বলা যাবে না। কারণ পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন আসে। এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু বা সুষ্ঠু হয় না, তা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এ জন্য দেশে গণতন্ত্র নেই, এটা বলা যাবে না। কারণ ১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে যেভাবে দেশে সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি করেছে, সেটাও কিন্তু কোনো গণতন্ত্র হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মঙ্গল করাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। দেশ ও মানুষের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড রাজনীতির অংশ হওয়া উচিত নয়।’