ফেসবুকেই সহায়তা মিলবে পুলিশের

পর্যটন নির্বিঘ্ন করাই লক্ষ্য

দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে বেড়ানোর এখনই মোক্ষম সময়। তবে আনন্দভ্রমণ সব সময় আনন্দদায়ক নাও হতে পারে। ছিনতাইকারী, পকেটমার, প্রতারক, বখাটের উত্পাতে দর্শনার্থীদের আনন্দউল্লাস বিষাদে পর্যবসিত হতে পারে। এসব দুর্বৃত্তের হাত থেকে বাঁচাতে পর্যটকদের দ্রুত সহায়তা দিতে ফেস বুকে সেবামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ। কার্যক্রমের প্রথম পাঁচ মাসে ‘ফেসবুক সহায়তা’ নিয়েছেন দেশি-বিদেশি সহস াধিক পর্যটক। ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দফতর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ফেস বুক মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (প্লানিং এবং অপারেশন) সরদার নুরুল আমিন বলেন, নির্বিঘ্নে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ খুব সহজেই তাদের সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য যেতে হবে না পুলিশ স্টেশন বা ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে। মোবাইল ফোন অথবা ল্যাপটপে ফেসবুকের মাধ্যমেই যে কেউ জানাতে পারবেন তার অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ ওই ব্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে যাবে। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশের কোন কর্মকর্তা বা সদস্য সহায়তা দিতে অপারগতা জানিয়েছে—এমন অভিযোগও জানাতে পারবেন ভুক্তভোগী পর্যটক। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে পর্যটকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার (প্লানিং ও টেনিং) মোরতাজ আহমেদ বলেন, টুরিস্ট পুলিশ ইউনিট সম্পূর্ণ নতুন। দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এ ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ট্রেনিং শেষ করে পুরোপুরি অপারেশনে নামতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এখন পুরোপুরিভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণে সহযোগিতা করতে পারছে।

ফেস বুকে সহায়তা প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ডাচ নাগরিক এসেছিলেন কুমিল্লায়, তার স্বজনদের খোঁজে। কিন্তু তার থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। ওই নাগরিক ফেস বুকে তার সমস্যা জানান। এ অবস্থায় টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে বলে তাকে ডাক বাংলোয় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি দেশে ফেরার সময় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দফতরে এসে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে যান।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হাসান বলেন, চলতি বছর (২০১৬) ‘ট্যুরিজম বর্ষ’। আশা করা হচ্ছে, এ বছরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসবেন। তাদের ভ্রমণ যাতে নির্বিঘ্ন হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রমের পরিকল্পনা সেভাবেই করা হয়েছে। আমরা ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের বলবো- ভ্রমণ করুন, আপনাদের নিরাপত্তায় সব সময় আমরা পাশে আছি। তিনি বলেন, আশা করা যায় আগামী ২০২০ সাল নাগাদ পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আসবে। আর এ পরিবর্তনে ট্যুরিস্ট পুলিশের অবদান থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, ক্রমে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছে। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের ইনানী বিচ, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিচ, পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি। এসব এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে যানবাহন না থাকায় মোটর সাইকেলেই দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।

২০১৩ সালের নভেম্বরে ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ’ নামে পুলিশের এই বিশেষ ইউনিটটি গঠন করা হয়। ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন একজন ডিআইজি। সদস্য সংখ্যা ৭০৩ সদস্য। সদর দফতর রাজধানীর বনশ্রী এলাকায়।