দেশ এগিয়ে চলেছে-কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এটি আর কোনো নতুন খবর নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া সংঘাত-সন্ত্রাস সত্ত্বেও এই অগ্রগতি ঘটছে, তাও জানা, তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে এর মধ্যে উন্নয়ন কেমন করে হচ্ছে। আমার বিবেচনায় এর পেছনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যমান অনুকূল নীতিকাঠামো এবং কৃষক, কৃষি ও অন্যান্য শ্রমিক এবং উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ও পরিশ্রম। তারা মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান। তা বারবার দেখা গেছে। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয় প্রকার দুর্যোগের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। অবশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে না বাড়লে এবং মনুষ্যসৃষ্ট অমানবিক ও উন্নয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ড সময় সময় না ঘটলে অনুকূল নীতিকাঠামো এবং জেগে ওঠা জন উদ্যম দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো।

অতিসম্প্রতি একটি সংক্রামক শক্তি যুক্ত হয়েছে জাতির মননে ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে। পদ্মা সেতু নিজেরাই স্থাপন করব—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পথ ধরে জাতির আত্মমর্যাদার যে উদ্বোধন ঘটেছে তা এদেশের মানুষের আত্মশক্তির বিকাশে অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ পারে এই প্রত্যয়ের বারতা দেশের মানুষের মধ্যে যত প্রচারিত হবে ততই তারা নিজ প্রচেষ্টায়, নিজ উদ্যমে এগিয়ে যেতে, দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ মানুষের মধ্যেও আত্মশক্তির এরূপ বিকাশ দানা বাধতে শুরু করেছে।

লক্ষণীয়, বাস্তবতা হচ্ছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে যা উদাহরণস্বরূপ বিশ্বে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে সঠিকভাবেই বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ সফলতার সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে এমন পর্যায়ে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কৌশিক বসু সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে এ রকম কথা বলেছেন। অবশ্য তিনি বাস্তবতার প্রতিধ্বনিই করেছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে রপ্তানি বাড়ছে এবং রেমিট্যান্সও, প্রতিবছরই রেকর্ড সৃষ্টি করে। তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে ঘটেছে। সারাদেশে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রগুলো উন্নয়ন ও সামাজিক তথ্য আদান-প্রদানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভরতা দুর্নীতি কমাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির জেগে ওঠা। শুধু কৃষি নয়, কৃষি-বহির্ভূত খাতগুলোতে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে এবং ঘটছে। জাতীয়ভাবে খাদ্য উত্পাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি-সহায়ক যন্ত্রপাতি উত্পাদনে ও বিতরণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মকাণ্ড গতি পেতে শুরু করেছে। গ্রামীণ মজুরি বর্তমানে চালের নিরিখে সাধারণত দৈনিক নয়-দশ কেজি পরিমাণ, এমনকি কোনো কোনো অঞ্চলে যখন কৃষিকাজ তেমন থাকে না তখনও মজুরি পাঁচ/ছয় কেজি চালের সমপরিমাণ থাকে। স্মর্তব্য, ১৯৮০-এর দশকে মজুরির দাবি ছিল সাড়ে তিন কেজি চালের সমপরিমাণ।

কোনো কোনো অঞ্চলে ইতোমধ্যেই কৃষি শ্রমিক সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। এর একটি বড় কারণ, অনেক মানুষের বিদেশে কাজের জন্য গমন এবং অকৃষিখাতসমূহের সম্প্রসারণ। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যখন সার্বিক উন্নয়ন ঘটে তখন কৃষি থেকে শ্রমশক্তি অন্যান্য খাতে স্থানান্তরিত হয়, কেননা ঐ সকল খাতে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হচ্ছে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিতে যন্ত্রীকরণের সম্প্রসারণ। এই অবস্থায় একদিকে যথাযথ অর্থায়ন, তথ্য সরবরাহ, প্রযুক্তি প্রাপ্তি যাতে কৃষি বহির্ভূত খাতগুলোতে নিশ্চিত হয় সেদিকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং অপরদিকে কৃষির আধুনিকায়নে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই গ্রামীণ অর্থনীতির দ্রুত এবং সুষম বিকাশ ঘটতে পারে।

দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতির চাঙ্গা হওয়া এবং অন্যান্য খাতে বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত সৃষ্টি করেছে এবং দেশ মধ্যম আয় ও সুষম জীবনমানের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে। নিঃসন্দেহে দেশের আর্থ-সামাজিক অর্জন অনেক এবং ব্যাপক। তবে আত্মতুষ্টির কোনো কারণ নেই। এখনও প্রায় দু’কোটি মানুষ অতিদরিদ্র এবং চার কোটি দরিদ্র। আয় ও ভোগবৈষম্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে না বাড়লেও প্রকট এবং সম্পদ বৈষম্য বাড়ছে বলে ধারণা করা যায়। তবে সম্পদ বৈষম্য বিষয়ে তথ্যের অভাব রয়েছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও ২০১৬ সালের জানুয়ারির ১লা তারিখ থেকে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করার কথা। স্মর্তব্য, টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে মানুষকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে গ্রাহ্য পরিবেশসম্মত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়নে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিরাজমান প্রকট বৈষম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। সুতরাং উন্নয়ন নীতি ও কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে আয়-বৈষম্য ও ভোগ-বৈষম্য সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে এবং সম্পদ-বৈষম্য এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সম্পদে অভিগম্যতা এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যাতে প্রত্যেক নাগরিকেরই সম্পদে ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশ উন্নতির যে ধাপে আছে তার জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে মানব সক্ষমতা মোটামুটি থাকলেও আরও অগ্রগতির পথে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসাবে আবির্ভূত হবে যদি না এক্ষেত্রে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থাত্ কোন্ কোন্ খাতে এবং কোন্ কোন্ পর্যায়ে, কোন্ কোন্ দক্ষতা প্রয়োজন এবং এই বিভিন্ন দক্ষতাসম্পন্ন কত জনের প্রয়োজন তা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর মূলে অবশ্যই রয়েছে মানবসম্পন্ন শিক্ষাদান ও প্রয়োজন অনুসারে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে হলে বিনিয়োগ অবশ্যই বাড়াতে হবে জাতীয় বিনিয়োগ, বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ, জাতীয় আয়ের শতাংশ হিসাবে বিগত কয়েক বছরে কিছুটা বাড়লেও এখন এতে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো জানা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামো সংকট এবং জ্বালানির প্রাপ্যতায় ঘটতি। বিদ্যুতের সরবরাহ বিগত ৫/৬ বছরে তিন গুণ বেড়েছে, যা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক বিকাশ ঘটায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে আরও বেশি। এই চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও তত্পর হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার তো বটেই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীসমূহকেও নজর দিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের মুখে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রথম সারিতে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সচেতন এবং এ সংক্রান্ত নীতি কৌশল ও কর্মসূচি সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে সরকারের বাইরেও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তত্পরতা বাড়ছে। সবার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন প্রাপ্ত সম্পদের পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এর সমাধানও সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় হতে পারে। আগামীতে বাংলাদেশকে নিজ প্রচেষ্টা জোরদার করতে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভে পরিকল্পিতভাবে এবং আরো তত্পরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পাশাপাশি নদী ও রাস্তাঘাটে বর্জ্য ফেলা, পাহাড় কাটা, নদী ভরাট, ডোবা ভরাট, গাছ কাটাসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী সকল কর্মকাণ্ডও নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় নয় (যদিও এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রকটতর হতে পারে), এগুলো কিছু মানুষের বিবেচনাহীনতা ও লোভ-লালসার প্রতিফলন যা পরিবেশ বিনষ্ট করে।

এ ছাড়া, টেকসই উন্নয়নের জন্য আরও কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যথা: সরকারি কর্মকমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ইত্যাদির অধিকতর ন্যায়বিচারভিত্তিক গণমুখীকরণে বিদ্যমান ঘাটতিসমূহ চিহ্নিত ও দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন রয়েছে স্থানীয় সরকারকে সংবিধান ও বর্তমান সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী ক্ষমতায়িত এবং শক্তিশালীকরণের। দুর্নীতি দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন সম্বন্ধে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে অবশ্যই নাগরিক সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়ন প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে উন্নয়ন বাজেট নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে যথাসময় বাস্তবায়ন করা যায়।

অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে হবে। অর্থাত্ সংবিধানে বর্ণিত চারটি স্তম্ভ (বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র যথা আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার) ধারণ করে এদেশে ‘একটি সমাজ’ গড়ার দিকে নজর দিতে হবে। সব মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা বা সম্পদে সমান হবে না, কিন্তু প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার এবং মানমর্যাদা নিশ্চিত হতে হবে। টেকসই উন্নয়নের ধারণায়ও মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের কথা রয়েছে, রয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের যথাযথ অন্তর্ভুক্তির। এই পথে জাতির অমোঘ অগ্রগতির জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের সকল নাগরিকের ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হচ্ছে, তাই দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির মধ্যে একটি স্বস্তিভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিচার প্রক্রিয়া যত দ্রুতসম্পন্ন হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির ঐক্য প্রতিষ্ঠার ভিত আরো শক্ত হবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হচ্ছে। এজন্য জাতি চিরকাল তাকে কৃতজ্ঞতা সহকারে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দলিতসহ পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীদের অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন। মানুষ হিসাবে এটি তাদের অধিকার। তাছাড়া, যেহেতু সবাইকে ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করা টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিক, তাই তাঁর এই বক্তব্য খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। লক্ষণীয়, দেশে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরুর সময়ই তিনি এই ঘোষণা দিলেন। সংশ্লিষ্ট সকলকে নীতি, কৌশল ও কর্মসূচিতে এর যথাযথ প্রতিফলন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের জনসংখ্যায় তরুণ প্রজন্মের আধিক্য থাকায়, এদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৌশল নির্ধারণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসংখ্যার এই বিদ্যমান বয়স-বিন্যাস থেকে ফায়দা উঠাতে হবে। বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত দেশে একটি সময়োপযোগী শিক্ষানীতি ও একটি দক্ষতা সৃষ্টি নীতি রয়েছে। এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। যাতে আজকের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের এবং দেশের উন্নয়নে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারে।

জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের এদেশে এখনও কমবেশি ২০ লাখ প্রতিবছর জনসংখ্যায় যুক্ত হচ্ছে। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সবার ন্যায্যভিত্তিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দেশের জনসংখ্যার এমন বৃদ্ধি একটি প্রতিবন্ধকতা হিসাবে কাজ করবে।

সবশেষে বলতে চাই, একটি অগ্রসরমান অর্থনীতিতে-সমাজে যে কোনো এক সময়ে, সমাধান করা হয়নি এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে এবং সময় সময় কিছু নতুন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। করণীয় হচ্ছে, এসব সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলোর সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এরকম কিছু দিক এই লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয় যাতে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগগ্রতি বাধাগ্রস্ত না হয়।