পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারে চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। সৈকত রাণী কক্সবাজারকে বিশ্বে আরও বেশি জানান দিতে এবং বিদেশী পর্যটকদের কক্সবাজারে আমন্ত্রণ জানাতে সম্প্রতি সমাপ্ত করা হয়েছে তিনদিনের মেগাবিচ কার্নিভ্যাল। কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নে ভরে যাচ্ছে বলেই অত্যন্ত খুশি স্থানীয়রা। জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ ছাড়াও দ্বীপ মহেশখালীতে কয়লা থেকে আরও ৭ শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য বিদেশী বিনিয়োগে নতুন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপন ও পরিচালনার জন্য সম্প্রতি বিদ্যুত মন্ত্রণালয় এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিও হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে ৭১৭ কোটি টাকা। বাকি অর্থ দেবে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবুল কাশেম বলেন, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে বাংলাদেশ সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন উপযোগী জমি ও অবকাঠামোর ব্যবস্থা করবে। এরপর দুই দেশের একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, মূল প্রকল্পটিতে প্রায় ১ শ’ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। আর প্রাথমিক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪৫ কোটি টাকা। মহেশখালীতে বর্তমানে জাপানের অর্থায়নে ‘সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক ৬ শ’ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। নতুন এই বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে প্রাথমিকভাবে ‘বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭ শ’ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণ ও সুরক্ষা এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে ১ হাজার ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ শ’ কোটি টাকা। বাকি অর্থ দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে মূল রাস্তার যোগাযোগ সড়ক তৈরি, ভূমি উন্নয়ন এবং সাগর ও নদী ভাঙ্গন থেকে ভূমি রক্ষা বাঁধ করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটি বিশ্লেষণের জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক-মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় তোলা হয়। এতে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের খাস-খতিয়ানের জমিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই সভায় প্রকল্পটির জন্য চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) অন্তত ৩ শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এমডি মোঃ আবুল কাশেম আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল প্রকল্পটি চূড়ান্ত হতে পারে। তার পরবর্তী বছরের মধ্যেই মূল প্রকল্পটির কাজ শুরু হতে পারে।