প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে বিনোদন

সমাজের আর আট-দশটি শিশুর মতো প্রতিবন্ধী শিশুরও মন চায় ইট-পাথরের গড়া এই নগরীর চার দেয়ালে ঘেরা বন্দীজীবন থেকে বেরিয়ে এসে বাইরের জগতের সাথে মিশতে। সাধারণ শিশুর মতো তারও মন চায় সবার সাথে হই-হল্লা আর আনন্দ উল্লাস ভাগাভাগি করে নিতে। তারও মন চায় সাধারণ শিশুর স্বজনদের মতো তার স্বজনও তার আনন্দ উপভোগ করবে। হাত নেড়ে তাকেও এগিয়ে চলার উত্সাহ দেবে।

হ্যাঁ, প্রতিবন্ধী শিশুদের মনে জাগা এসব প্রশ্নের বাস্তব উত্তর আমাদের সমাজে একটু হলেও কম মিলছে। তবে সমাজ এ নিয়ে একদমই ভাবছে না, তা কিন্তু নয়। তারই এক প্রতিফলন দেখা মিলবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার চত্বর ঘুরলে।

‘প্রতিবন্ধীরা আমাদের বোঝা নন, তারা আমাদেরই সন্তান। সমাজের আর দশটি শিশুর মতো তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। আসুন আমরা সচেতন হই।’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের ব্যবস্থা করছে সাকিরা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ড। মেলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পার্ক সদৃশ একটি জায়গায় প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছে ট্রেন যাত্রা, টু-ইস্ট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, প্রাইভেট কার, ঘূর্ণিসহ মোট ২৫টি রাইড। মেলা চলাকালে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এখানে বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। গতকাল প্রতিষ্ঠানের রাইডগুলো উদ্বোধন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দেশে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী আছে। এদের মধ্যে একটা সময় ছিল মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সচেতনতা ছিল না। তবে বর্তমানে এ চিত্র অনেকাংশে পাল্টে গেছে। এখন মানৃুষ জানতে শিখছে যে, প্রতিবন্ধীরাও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে। আজ গ্রামের মায়ের মধ্যেও অটিজম নিয়ে সচেতনতা আসছে। আর এ ক্ষেত্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও নানা ধরনের দক্ষতা আছে। এরাও সমাজের সম্পদ। আমরা এদের গুণগুলোকে কাজে লাগাতে পারি।

প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে সমাজে সর্বাধিক সচেতনতার সংকীর্ণতা রয়েছে এমনটাই ভাবছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও অটিজম নার্সিং হোমের উপদেষ্টা কবি শামিমরুমি টিটন। শুক্রবার রাতে মেলার এ জায়গাটি ঘুরে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমরা অটিজমের মানসিক সামাজিক স্বীকৃতি চাই। আর এ জন্য তাদের সক্ষম হয়ে উঠতে আরো নার্সিং হোম এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দরকার। এ ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজ, ঘরের গৃহিণী, মেডিক্যালের নার্সরাও ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাকিরা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী মো. মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নন। তাদেরও মন চায় সমাজের সাধারণ শিশুর মতো হাসতে খেলতে, বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখতে। মেলা উপলক্ষে এসব শিশুর জন্য রাইডগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোররা আসছে এবং বিনোদনের সব রাইড বিনামূল্যে উপভোগ করছে। এমনকি এসব শিশুকে মেলায় নিয়ে আসতে চায় এমন কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের যাতায়াতের খরচও আমরা বহন করছি। এ ছাড়া দুস্থ এবং অসহায় শিশুদের জন্যও এ সুযোগ রয়েছে।

মেলার এ জায়গাটিতে ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় শিশুদের চিত্কার আর হই-হুল্লোড়। কেনাকাটার ফাঁকে দর্শনার্থীরা এখানে সময় কাটাচ্ছেন এবং উপভোগ করছেন বিভিন্ন ধরনের রাইড। ট্রেন যাত্রা, টু-ইস্ট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, প্রাইভেট কার, ঘূর্ণিসহ মোট ২৫টি রাইড।

এসব রাইডের মধ্যে ট্রেন, টু-ইস্ট, নাগরদোলা এবং থ্রি-ডি শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও মন কেড়েছে। শিশুদের নিয়ে বড়রাও উপভোগ করছেন এসব।