সন্ত্রাস মোকাবেলার নির্বাচন ৫ জানুয়ারি!

মিল্টন বিশ্বাস

মল্টন বিশ্বাস : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে-পরে যারা সন্ত্রাস সংঘটনে ইন্ধন দিয়েছে, সক্রিয়ভাবে নাশকতায় জড়িত থেকেছে এবং সহিংসতাকে রাজনীতির অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত করেছে তারা এবং তাদের সমর্থকরা সেই সময়ের মতো বর্তমানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছে। ৩০ ডিসেম্বর (২০১৫) অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে সম্পূর্ণরূপে ভরাডুবি হয়েছে খালেদা জিয়ার দলীয় নেতাকর্মীর। একইভাবে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন এবং পরের দিন থেকে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ৫ জানুয়ারিকে কালো দিবস হিসেবে অভিহিত করে ওই দিনটিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নতুন অভিযাত্রা শুরুর দিন গণনা করা- এসবই ছিল বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলের ধৃষ্টতা। অথচ বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর দৃঢ় আস্থা প্রদর্শন করেছে। আর বিএনপি-জামায়াতকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছে। কারণ বর্তমান প্রজšে§র কাছে শেখ হাসিনা এক আশ্চর্য সাহসী রাজনীতিকের নাম; যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া শেখ হাসিনাবিহীন যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তরুণ প্রজš§ প্রত্যাখ্যাত করেছে বিএনপি-জামায়াতকে। আবার নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বীভৎস চিত্র গণমানুষকে আতঙ্কিত করে তোলায় তারা আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করছে। এদিক থেকে ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচন আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিএনপির অবরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ২০১৪-এর শেষও হয়েছে জামায়াতের হরতালের মাধ্যমে। কিন্তু সহিংসতা আর জ্বালাও-পোড়াও করে তারা থামাতে পারেনি যুদ্ধাপরাধের বিচার। বরং গতবছর (২০১৫) তিনজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় জনগণকে শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল করে তুলেছে অনেক বেশি। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে জামায়াতের বাঁচা-মরার আন্দোলনও দমে গেছে। অন্যদিকে সাত বছর ধরে বিএনপি কয়েক দফা আন্দোলনের হুঙ্কার দিয়েও মাঠ গরম করতে পারেনি। বরং জামায়াতের প্রধান মিত্র তারা এখন হরহামেশাই বলতে বাধ্য হচ্ছে, ‘জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নির্বাচনী রাজনীতি’র। শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, কূটনীতিক দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সব বিরূপ পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে এসেছেন। তার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিকরা। কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদার বানিয়ে ফেলেছেন রাশিয়া ও জাপানকে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়েছে। পূর্বমুখী কূটনীতির অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। নিজের সরকারের উন্নয়নের মডেল অন্যান্য দেশের কাছে উপস্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় ৫ জানুয়ারি সম্পন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ফেসবুকে বলেছিলেন, ‘এটা ছিল সন্ত্রাসের মুখে অসাধারণ সংগ্রাম’। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস মারমুখি অবস্থানের মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার ঘটনা আমাদের দেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। সন্ত্রাস ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে কিন্তু গণতন্ত্রের পক্ষের সেই নির্বাচন দেশবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে। তবু জামায়াত-বিএনপি’র অপতৎপরতা চলছে। তাদের প্রতিহত করার জন্য এখন দরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্য। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেই ঐক্যের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে। গত বছর ৯ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করে আওয়ামী লীগসহ নতুন সাংসদরা পুনরায় দেশকে এগিয়ে নেবার প্রত্যয়ে উদ্দীপিত হয়েছেন। এজন্য ১২ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সাবেক মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে আরো পাঁচ বছর। গত এক বছরে আপামর জনসাধারণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন রয়েছে এই নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডে।

লেখক: অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়