কেবল পোশাকেই স্বস্তি

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ১২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের এ খাতটি। তবে অর্থবছরের প্রথমার্ধ শেষে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানির এই সাফল্যের হাত ধরেই দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার। এই আয় গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের ১ হাজার ৪৯১ কোটি ডলার রপ্তানির চেয়ে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
সুখবর এ পর্যন্তই। কারণ, তৈরি পোশাক ও প্রকৌশল পণ্যের বাইরে অন্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের অধিকাংশেরই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই তালিকায় আছে পাট ও পাটজাত, চিংড়ি, ছয় ধরনের কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য এবং বাইসাইকেল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ (ইপিবি) গতকাল মঙ্গলবার দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে যে রপ্তানি আয় হয়েছে, তা ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।
এদিকে শুধু ডিসেম্বরে ৩২০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ডিসেম্বরের রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ১ হাজার ৩১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পোশাক খাত থেকে এসেছে। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তা গত অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ২০২ কোটি ডলারের রপ্তানির চেয়ে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ক্রয়াদেশ পাওয়ার এখন ভরা মৌসুম। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মার্চ-এপ্রিলে একটু কম থাকলেও মে-জুনে ক্রয়াদেশ বেশি আসবে। সব মিলিয়ে আগামী ছয় মাস পোশাক রপ্তানি ভালো ছাড়া খারাপ হবে না। তিনি আরও বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকা এত শক্তিশালী না হলে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো বাধা না থাকলে পোশাক রপ্তানি আরও বেশি হতো।
এদিকে, ইপিবি বলছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ২৫ কোটি ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৩২ কোটি ডলারের রপ্তানির চেয়ে ২২ শতাংশ কম। কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ২৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এই আয় গতবারের চেয়ে সাড়ে ১৮ শতাংশ কম। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ৪২ কোটি ডলার আয় হয়েছে। তবে তা গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। আবার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৫৬ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হলেও গতবারের চেয়ে তা প্রায় ২ শতাংশ কম। অবশ্য প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে ২৭ কোটি ডলার আয় হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা গত রাতে বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে চিংড়ির দাম হঠাৎ করেই ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তার আগেই বেশি দামে চিংড়ি কিনে মজুত করেছিলেন দেশের রপ্তানিকারকেরা। দাম কমায় তাঁদের চলতি মূলধনের ৪০ শতাংশই হারাতে হয়। সেই ক্ষতি ব্যবসায়ীরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মূলধনের অভাবে পর্যাপ্ত চিংড়ি কিনতে পারছেন না তাঁরা। তাই অব্যাহতভাবে চিংড়ি রপ্তানি কমছে।