কল্যাণপুর–গাবতলী সড়ক পার্কিংমুক্ত

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই কল্যাণপুর-গাবতলী পর্যন্ত সড়ক অবৈধ পার্কিং মুক্ত থাকবে। ১ জানুয়ারি থেকে কোনো যানবাহন সড়কে রাখা হলে মালিক-শ্রমিকদের জেল-জরিমানা হবে। গতকাল মঙ্গলবার গাবতলী টার্মিনালে এক সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এ ঘোষণা দেন।
শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকায় প্রধান সড়ক যানজট ও পার্কিংমুক্ত ঘোষণা দিতে ডিএনসিসি এই সভার আয়োজন করে। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশের রাস্তা যানজট মুক্ত করা হবে। সড়কে কোনো বাস-ট্রাক-মিনিবাস দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। মালিক-শ্রমিকদের অনুরোধে ১ জানুয়ারি নতুন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সভার প্রধান অতিথি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে দেখলাম, গাবতলীতে তিন সারিতে রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা। লোকজন গালি দেবে না কেন? শ্রমিক-মালিকদের বলতে চাই, রাস্তায় কোনো গাড়ি থাকবে না। পাবলিকের গালি খাইয়েন না।’
আনিসুল হক বলেন, রাস্তায় গাড়ি না রাখলে শ্রমিকদের কোনো সমস্যা হয় না। গাড়ির মালিকেরা রাস্তায় রাখতে বলেন, তাই শ্রমিকেরা বা চালকেরা গাড়ি রাস্তায় রাখেন। সরকার গাড়ির কাগজ দেওয়ার সময় বলে দেয় না গাড়ি কোথায় রাখবেন। তাই বলে রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখবেন, এটা হয় না।
সভায় মাইকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কাওসার আহমেদ নামের একজন শ্রমিকনেতা বলেন, এক দিনের সিদ্ধান্তে, হুট করে কিছু হবে না। সড়ক থেকে গাড়িগুলো সরিয়ে নিয়ে কোথাও রাখার জায়গা নেই। সড়ক থেকে গাড়ি সরাতে আরও সময় প্রয়োজন। তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত শ্রমিকেরা উল্লাস প্রকাশ করলে অনুষ্ঠানের সভাপতি স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক তাঁদের হাত উঁচিয়ে, চেঁচিয়ে চুপ করান।
এ বক্তব্য চলার সময় অতিথির আসনে বসা আনিসুল হক বলেন, ‘গাড়ি কোথায় রাখবেন, সেটা আপনার সমস্যা। আপনার গাড়ি আপনার বাড়ি নিয়ে যান। তাও রাস্তায় রাখা যাবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে আসলামুল হক বলেন, টার্মিনাল মানেই গাড়ির গ্যারেজ বানানো নয়। এখানে গাড়ি আসবে, যাত্রী তুলবে, চলে যাবে। টার্মিনালে ব্যক্তিগত গ্যারেজ করে ব্যবসা করছেন। গাড়ি রাখার জায়গা নেই। গাড়িগুলো সড়কে না রেখে টার্মিনালের ভেতরে রাখেন। টার্মিনালের ভেতর গ্যারেজ করে সড়ককে টার্মিনাল বানাবেন, এটা হবে না।
বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার বলেন, সিটি সার্ভিসগুলো যেন এই টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারে, তা মাথায় রাখতে হবে। এই সিটি বাসগুলো টার্মিনালের মূল সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে বিকল যানবাহন টার্মিনালে পড়ে আছে, টার্মিনালের ভেতর অবৈধ স্থাপনা ও দোকান গড়ে উঠেছে। সেগুলো অপসারণ করতে হবে এবং ৫ থেকে ১০ দিন পরে সেগুলো যেন আবার গড়ে না ওঠে, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সভায় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন ও গাবতলী নগর বাস টার্মিনাল কমিটির আহ্বায়ক মফিজুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।