পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার

স্বাস্থ্য শহর কক্সবাজার এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতসহ দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকের সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা এবং ৩ দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ দিন সন্ধ্যার পর কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। সকল প্রকার অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে সন্ধ্যার আগে। প্রশাসনিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে পর্যটন বর্ষ ২০১৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত বিচ কার্নিভালসহ নানা অনুষ্ঠানে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপরও বরাবরের মতো স্বাস্থ্য শহর কক্সবাজারে ভ্রমণে আসছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। এসব পর্যটকের আগমনের উদ্দেশ্য অনুষ্ঠান নয় বরং অবকাশ যাপনই প্রধান বলে অভিমত সকলের। তাই থার্টি ফার্স্ব নাইট বা ৩১ ডিসেম্বরকে ঘিরে পর্যটকের আগমনে কোন প্রভাব পড়ছে না। জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সকল অনুষ্ঠান হবে দিনের আলোয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, থার্টি ফার্স্ব নাইট মানেই কক্সবাজার উত্সবের নগরী। সমুদ্র সৈকতে ওপেন কানসার্টে শিল্পীদের সংগীত অনুষ্ঠান অন্যতম আকর্ষণ। এবছর আরো ব্যাপকহারে এসব আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে সরকার ঘোষিত পর্যটন বর্ষ ২০১৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েছে ৩ দিনব্যাপী বীচ কার্নিভাল। যে কার্নিভালকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আয়োজন। কিন্তু নিরাপত্তার আশংকায় প্রশাসনিকভাবে সন্ধ্যার পর থেকে সকল প্রকার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সমুদ্র সৈকতসহ জেলার সকল স্থানে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যার পর কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইতিমধ্যে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসতে শুরু করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ঘিরে কক্সবাজারে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ-কটেজের শতভাগ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

কক্সবাজারের কলাতলীস্থ ‘ভিস্তা বে রিসোর্টের’ চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, অনুষ্ঠান কখন হবে এটার উপর ভিত্তি করে পর্যটকরা আসেন না। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র ও পাহাড়ের মিতালী, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, ইনানী পাথুরে বিচ ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য পর্যটকরা আসেন। ইতোমধ্যে প্রায় সব ক’টা আবাসিক হোটেলের কক্ষ শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। এখন বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার অবস্থান করছেন। প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পর্যটকের সংখ্যা। ৩১ ডিসেম্বরে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে হবে কয়েকগুণ।

হোটেল ‘দি কক্স-টুডের’ ব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে অনেক বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। ৩১ ডিসেম্বর আরো বৃদ্ধি পাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। অগ্রিম বুকিং রয়েছে শতভাগ। এখানে কোন অনুষ্ঠান হলে তা পর্যটকের জন্য বাড়তি বিনোদন। না হলেও পর্যটক আসবেন তাদের নির্ধারিত সময়সূচি মতে।

হোটেল ‘লং বিচের’ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তারেক জানান, শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর সকল প্রকার অনুষ্ঠান বন্ধ হলেও পর্যটক আগমনে কোন প্রকার প্রভাব পড়বে না। বীচ কার্নিভালে অনুষ্ঠানসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাতে সংগীত অনুষ্ঠান ও আতশবাজি হবে না। সংগীত অনুষ্ঠান দিনে করার পরিকল্পনা চলছে। অন্যান্য অনুষ্ঠান সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। সৈকতে ঘুরতে কোনপ্রকার বাধা থাকবে না। পর্যটকদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সাদা পোশাকে থাকবে নজরদারি, থাকবে বিশেষ চেকপোস্টও।