আগামী বছর নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে দুটি সাবমেরিন

চার দশকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী অনেক দেশ থেকে বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন সংযোজিত হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত করার যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন তা পূর্ণ হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ প্রতিটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। গত চার দশকে বিভিন্ন সূচকে আমরা প্রতিবেশী অনেক দেশ এমনকি ভারতকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছি। পাকিস্তান সব সূচকে আমাদের থেকে অনেক পেছনে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে ‘শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। ৫ কোটি মানুষ মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক চার শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে। রপ্তানি বেড়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছে বহুগুণে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। উন্নত দেশে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর একটি
মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৫/বি ব্যাচের ২৪ জন এবং মিডশিপম্যান ২০১৪/এ ব্যাচের ৫৩ জনসহ মোট ৭৭ জন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। এদের মধ্যে একজন শ্রীলঙ্কান মিডশিপম্যান আছেন। কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন নারী ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার এবং ৬ জন নারী মিডশিপম্যান রয়েছেন। কৃতিত্বের জন্য সাব-লেফটেন্যান্ট এম রেহানুরজামান ‘শহীদ মোয়াজ্জেম পদক’, মিডশিপম্যান ফাহিম উদ্দিন সাকিব ‘র্সোড অব অনার’, মিডশিপম্যান জাহিদ মোহসিন কবীর ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক এবং এম রিয়াজুল ইসলাম ‘নৌপ্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় এক উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণচীনে নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক দুটি করভেট বানৌজা ‘প্রত্যয়’ ও বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ফ্রিগেট বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’ আগামী মাসে কমিশনের পর নৌবহরে যুক্ত হবে। সাবমেরিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালীর রাবনাবাদ এলাকায় অ্যাভিয়েশন সুবিধা-সংবলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌ-ঘাঁটির কার্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এ একাডেমিতে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী নৌ-কমান্ডোদের অবদানকে সমুন্নত রাখতে কর্ণফুলীর মোহনায় জাদুঘর ‘বিজয় তরঙ্গ’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। নৌবাহিনীর সদস্যের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিজয়ী হয়ে গভীর সমুদ্রে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুল জল সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছি।
বাংলাদেশের ৭২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপক‚ল এলাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অর্জিত এ বিশাল সামুদ্রিক এলাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্য পরিচালনা ছাড়াও আছে মৎস্য, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্য মূল্যবান পদার্থ। সম্পদ রক্ষা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের দায়িত্ব নৌবাহিনীর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশা করি এ দায়িত্ব পালনে আপনারা সফল হবেন। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব এবং চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ আখতার হাবীব, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ক‚টনীতিক, সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।