জনতা টাওয়ারে স্থান বরাদ্দ পাচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তারা

সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (এসটিপি) হিসেবে কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু করেছে জনতা টাওয়ার। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পাশাপাশি পার্কে স্থান বরাদ্দ পাচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তারাও।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত ১৭ অক্টোবর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) তথ্যমতে, ১২ তলা জনতা টাওয়ারের প্রতি তলায় ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য জায়গার পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট। জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে জায়গা বরাদ্দ দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন উদ্যোক্তাদের আবেদন করতে বলা হয়।

তবে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও জনতা টাওয়ার এসটিপিতে স্থান বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক বছর মেয়াদে এ বরাদ্দ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৯৭ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থান বরাদ্দ দেবে বিএইচটিপিএ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম এ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে নতুন উদ্যোক্তাদেরও স্থান বরাদ্দ দেয়া হবে। এটি দেশের তরুণদের নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

২০১০ সালের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় জনতা টাওয়ারকে দেশের প্রথম সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে এটিকে গড়ে তুলতে দায়িত্ব দেয়া হয় টেকনোপার্ক লিমিটেডকে। তবে যথাযথভাবে ও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারার অভিযোগে ২০১৩ সালে টেকনোপার্কের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। এতে মামলা করে টেকনোপার্ক। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের মার্চে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চালু-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন আদালত। গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনোপার্কের করা এ মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

উল্লেখ্য, আশির দশকে মেসার্স জনতা পাবলিশার্স উত্তরা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে জনতা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু করে। তত্কালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এটি। তবে জনতা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শেষ করার আগেই এরশাদ ক্ষমতা হারান। অবৈধভাবে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ১৯৯১ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার রায়ে জনতা টাওয়ার বাজেয়াপ্ত করা হলে এটি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

বর্তমানে বিএইচটিপিএর অধীন দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গাজীপুরে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক ও যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরেন্দ্র সিলিকন সিটি রাজশাহী, ইলেকট্রনিক সিটি সিলেট, চন্দ্রদীপ ক্লাউড চর ও চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেসরকারি খাতেও এসটিপি হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে বিএইচটিপিএ। চলতি মাসে বেসরকারি খাতের চতুর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিজেআইটি লিমিটেড। এর আগে অ্যাকসেঞ্চার, অগমেডিক্স ও ডিজিকন নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে ঘোষণা দেয় বিএইচটিপিএ।