টিসিবির মাধ্যমে অস্ত্র আমদানির প্রস্তাব

বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) মাধ্যমে অস্ত্র আমদানির প্রস্তাব সংসদীয় কমিটিতে। একাধিক সদস্য এই প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের সেই প্রস্তাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন কমিটির সদস্য মহিবুর রহমান মানিক। তার প্রস্তাব আরো দুজন সদস্য সমর্থন করেন বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে কমিটির সভাপতি শওকত আলী বলেন, দু-একজন সদস্য প্রস্তাব করেছিলেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে যেসব আর্মস ব্যবহার করেন, তা যেন টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এতে কম টাকার বিনিময়ে তারা অস্ত্র কিনতে পারবেন। তবে তাদের সেই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে কমিটি সদস্য মহিবুর রহমান মানিক বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময় টিসিবির মাধ্যমে অস্ত্র আমদানি করা হতো। তবে এখন করা হয় না। এতে বেসরকারি পর্যায়ে অস্ত্র আমদানিকারকদের কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয় করতে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া টিসিবির মাধ্যমে অস্ত্র আমদানি করা হলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও কমবে।
তিনি আরো বলেন, টিসিবি শুধু ডাল, তেল, পিয়াজ আমদানি করে বছরের পর বছর লোকসানি প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে। যদি অস্ত্র আমদানি করা যায়, তাহলে হয়তো টিসিবি লাভের মুখ দেখতে পারবে।
বৈঠকে টিসিবির অডিট আপত্তি নিয়ে কমিটিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ পর্যন্ত ৬৬২টি অডিট আপত্তি প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭২টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থসংক্রান্ত অডিট অনিষ্পন্ন রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অডিট নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে টিসিবি।
কোনো অসাধুচক্র অযৌক্তিকভাবে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি বা দাম বাড়াতে না পারে এবং পণ্যের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে টিসিবিকে তাগিদ দিয়েছে কমিটি।
জনগণের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে টিসিবিকে ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করার সুপারিশ করা হয় কমিটিতে। টিসিবির গুদামজাতকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব জমিতে ৯০০ মে. টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি গুদাম ও ৩টি কোল্ড স্টোরেজ বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ২৪ দশমিক ৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিপি জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়।
কমিটি সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, মো. হাবিবর রহমান, আব্দুর রউফ এবং অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার অংশ নেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।