বাংলাদেশিদের জন্য দুয়ার খুলছে ওমরার

অবশেষে বাংলাদেশি ওমরা যাত্রীদের জন্য দুয়ার খুলছে। ওমরার নামে সউদী আরবে মানবপাচারের দরুন ভিসা বন্ধ থাকার দীর্ঘ নয় মাস পর পুনরায় ওমরা ভিসা চালু হচ্ছে। সউদী সরকার বাংলাদেশি ওমরা যাত্রীদের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেরিতে হলেও আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই ওমরাযাত্রীগণ ওমরা পালনের জন্য সউদী আরবে গমন করতে পারবেন। গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে ওমরা ভিসা খুলে দেয়ার বিষয়টি অবহিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সবুজ আহমেদ গতকাল এক চিঠিতে ওমরা ভিসা চালুর বিষয়টি ধর্মসচিব চৌধুরী মোঃ বাবুল হাসানকে নিশ্চিত করেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় ১৪৩৭ হিজরিসনের ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে ৭০টি ওমরা এজেন্সির তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সউদী রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রেরণ করেছে। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে উল্লেখিত ৭০টি ওমরা এজেন্সি’র তালিকা প্রেরণ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়নি। এনিয়ে ওমরা এজেন্সিগুলো জটিলতায় পড়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ৯ ডিসেম্বর এক সার্কুলারে পুরাতন হজ ও ওমরা লাইসেন্সের মালিকদের জামানতের (যাদের ১০ লাখ টাকা জামানত ছিল) অংক ১০ লাখ টাকার স্থলে ২০ লাখ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এতে হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ এক চিঠিতে ওমরা এজেন্সিগুলোর বধিত ১০ লাখ টাকার জামানতকে অযৌক্তিক ও অমানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করে জামানত না বাড়ানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রায় ৩শ’ ওমরা এজেন্সির মধ্যে সউদী আরবে ওমরার নামে মানবপাচারের অভিযোগে ৯৫টি ওমরা এজেন্সি’র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রী। যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাদের ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। হজের নামে মানবপাচারের অভিযোগে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছিল সউদী আরব। এতে মাহে রমজানেও হাজার হাজার প্রকৃত ওমরা যাত্রী ওমরা পালনের জন্য মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা করতে ১১ হাজার ৪৮৫ জন সউদী আরব গিয়ে ফেরত আসেনি। ওমরার নামে সউদীতে মানবপাচারের সাথে জড়িত ওমরা এজেন্সিগুলোকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন। সউদী আরবে ওমরার নামে মানবপাচারের অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ৯৫টি হজ এজেন্সিকে গত ১৮ নভেম্বর শাস্তি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে যে সব ওমরা এজেন্সি’র ২/১ জন যাত্রী ওমরা করতে গিয়ে দেশে ফিরেনি তাদের লাইসেন্সও বাতিল, জরিমানা ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সউদী সরকারের ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী ওমরা যাত্রী ১% ওমকুফ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ওমরা এজেন্সিগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তাদের শাস্তি লাঘবের জন্য আপীল করেছে। এদের অনেকের শুনানীও নেয়া হয়েছে। ৬৯টি হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ছাড়াও সেগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা করা হয়। শুধু জরিমানা করা হয়েছে ২৬টি এজেন্সিকে। খাজা এয়ার মিডিয়া সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এইচ এম তাজুল ইসলাম দারোগা গত ৭ ডিসেম্বর ধর্মমন্ত্রীর কাছে শাস্তির আদেশের বিরুদ্ধে এক রিভিউতে বলেন, ৮শ’ ২১জন ওমরা যাত্রীর মধ্যে ৯জন যাত্রী দেশে ফিরে আসেনি বলে অভিযোগ করা হলেও তা’ সঠিক নয়। কারণ উল্লেখিত ৯ জনের মধ্যে একজন ওমরা যাত্রী সউদী আরবে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যু সনদ সউদীস্থ হজ অফিসে জেদ্দা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পেশ করা হয়েছে। দেশে ফেরত আসা আরো ৪জন ওমরাযাত্রীর পাসপোর্টে জেদ্দা এয়াার পোর্টের ইমিগ্রেশনের সিল নেই। তবে ফেরত আসা এসব ওমরা যাত্রীদের পাসপোর্টে ঢাকা ও চট্রগ্রাম ইমিগ্রেশনের সিল রয়েছে। দেশে ফেরত বাকি চার জন ওমরা যাত্রী দেশের বাইরে চলে গেছে বলে আপীলে উল্লেখ করা হয়েছে।