পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে সুবিধা বাড়ছে বাংলাদেশের

স্বিল্পোন্নত দেশ হিসেবে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধায় ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল আউটসোর্সিং করার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নাইরোবি সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য রুলস অব অরিজিনের শর্ত শিথিল করায় এ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সেবা খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দেওয়া সার্ভিস ওয়েভার সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পরিবহনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে পারবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ১৫-১৮ ডিসেম্বর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ডাব্লিউটিওর সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব তথ্য জানান। গতকাল সচিবালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রুলস অব অরিজিনের শর্ত শিথিল করা ও সেবা খাতে সার্ভিস ওয়েভারের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট, কেমিক্যাল এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল ট্রান্সফর্মেশন’ সুবিধা পাওয়া যাবে।

ডাব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশসহ অন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী সম্মেলনে উন্নত দেশগুলোর এ ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের কোনো অনুরোধ করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। ভবিষ্যতেও দাঁড়াব। আমরা অন্যের দ্বারস্থ হব না। আমি জিএসপি স্থগিতের কথা সম্মেলনে বলিনি। কারণ আমি মন্ত্রী হিসেবে সম্মানিত একটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করি। বরং আমি বলেছি, আমাদের অর্থনীতি ভালো হচ্ছে। তোমাদের দেশেও আমরা বেশি পণ্য রপ্তানি করছি।’

সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থা এই মুহূর্তে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার এক মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের রপ্তানি কত? বললেন, ৯০ বিলিয়ন ডলার ছিল। তেলের নিম্ন দামের কারণে এখন ৪০ বিলিয়নে নেমেছে। আমরাও তো কাছাকাছি।’

ডাব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ অন্য স্বল্পোন্নত দেশকে রপ্তানি সুবিধা দিচ্ছে না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য। হংকংয়ে মন্ত্রী পর‌্যায়ের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত অনেক দেশ মেনে নিলেও যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন করেনি। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদিরসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।