সরকারি চাকরি পাঁচ বছর হলেই পেনশন

পাঁচ বছর চাকরি করলেই পেনশন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। চাকরি নেওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো সরকারি চাকরিজীবী মৃত্যুবরণ করলে কিংবা সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড স্থায়ীভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষণা করলে তিনি বা তাঁর পোষ্যরা পেনশন পাবেন। চাকরি নেওয়ার পাঁচ বছরের মাথায় স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই হলে তিনিও পেনশন পাবেন। এই সিদ্ধান্ত গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হচ্ছে। আগে পেনশন পেতে হলে কমপক্ষে ১০ বছর চাকরি করার শর্ত ছিল।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ছিল ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ ন্যূনতম পেনশন পেতে হলে কমপক্ষে ১০ বছর চাকরি করতে হতো। আর ২৫ বছর চাকরিকাল শেষে পূর্ণাঙ্গ পেনশন পান তাঁরা। এখন এই মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি স্তরে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ, যা আগে ছিল ৮০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি চাকরির মেয়াদ ১০ বছর না হলে এত দিন কোনো পেনশন পাওয়া যেত না। ফলে অনেক চাকরিজীবী দুর্ঘটনায় কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দুর্দশার কোনো অন্ত থাকত না। এ অবস্থায় পেনশনের ক্ষেত্রে চাকরির বয়স কমিয়ে নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ন্যূনতম ১০ বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে পাঁচ বছর চাকরির পর মূল বেতনের ২১ শতাংশ, ছয় বছর চাকরি শেষে ২৪ শতাংশ, সাত বছর শেষে ২৭ শতাংশ, আট বছর শেষে ৩০ শতাংশ এবং ৯ বছর শেষে ৩৩ শতাংশ পেনশন পাবেন সরকারি চাকরিজীবী বা তাঁদের পোষ্যরা।

এ ছাড়া ১০ বছর থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত চাকরি শেষে পেনশনে যাওয়া প্রতিস্তরেই নির্ধারিত পেনশনের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০ বছর শেষে মূল বেতনের ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশ, ১১ বছরে ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ, ১২ বছরে ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশ, ১৩ বছর শেষে ৪২ শতাংশ থেকে ৪৭ শতাংশ, ১৪ বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫১ শতাংশ, ১৫ বছরে ৪৮ শতাংশ থেকে ৫৪ শতাংশ, ১৬ বছরে ৫১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশ পেনশন পাবেন চাকুরে বা তাঁর পরিবার।

চাকরির বয়স ১৭ বছর হলে পেনশনের পরিমাণ মূল বেতনের ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ, ১৮ বছর হলে ৫৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ, ১৯ বছরে ৬১ শতাংশ থেকে ৬৯ শতাংশ, ২০ বছরে ৬৪ শতাংশ থেকে ৭২ শতাংশ, ২১ বছরে ৬৭ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭০ শতাংশ থেকে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৭৪ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশ, ২৪ বছরে ৭৭ শতাংশ থেকে ৮৭ শতাংশ এবং ২৫ বছর ও তার বেশিকাল চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে শতাংশ হিসাবে পেনশনের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তির সর্বনিম্ন পেনশনের পরিমাণ হবে তিন হাজার টাকা। আর অবসরভোগীর বয়স ৬৫ বছরের কম হলে তাঁর পেনশন বাড়বে ৪০ শতাংশ এবং বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলে তাঁর বাড়বে ৫০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ থেকে ২০ বছর বা ততোধিক চাকরিকালে পেনশনারদের আনুতোষিকের হার আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে পাঁচ বছর নির্ধারণ করায় পূর্ণ পেনশনের ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার বাধ্যতামূলক সমর্পিত প্রতি এক টাকার বিপরীতে ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ার আগেই কোনো চাকরিজীবী মৃত্যুবরণ করলে বা স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হলে, এতদিন তাঁকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা সহায়তা হিসেবে দিত সরকার। এখন তার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ওই চাকরিজীবী যে কয় বছর চাকরি করবেন, প্রত্যেক বছরের জন্য সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের তিন গুণ পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেবে সরকার। অর্থাৎ, কোনো চাকরিজীবী যদি তিন বছর চাকরি শেষে মারা যান বা শারীরিকভাবে চাকরি করতে অক্ষম হন, তাহলে তিনি বা তাঁর পরিবার তাঁর সর্বশেষ মাসের মূল বেতনের ৯ গুণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে পাবেন। তাঁর মূল বেতন ১০ হাজার টাকা হলে সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার টাকা।

পেনশনারের বিধবা স্ত্রীর আজীবন পেনশন প্রাপ্যতার শর্তও শিথিল করেছে সরকার। বর্তমানে প্রচলিত বিধান মতে, মৃত চাকরিজীবীর বিধবা স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। তবে এ ক্ষেত্রে বিধবা স্ত্রীকে লিখিত অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হয় যে তিনি আর বিয়ে করবেন না। এ ক্ষেত্রে সরকার শর্ত শিথিল করে বলেছে, ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবাকে আর এ ধরনের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে না। তবে মৃত মহিলা চাকরিজীবীর স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ না করলে বিপত্নীক স্বামী সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন পাবেন।