২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধীরে ধীরে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৫ সালের প্রথম ১০ মাস জানুয়ারি-অক্টোবরে বাজারটিতে রপ্তানি হয়েছে ৪৬৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা গত ২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অর্থের পাশাপাশি পরিমাণের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ থেকে ১৬০ কোটি বর্গমিটার কাপড়ের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হওয়া ১৩৮ কোটি বর্গমিটারের চেয়ে ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। পরিমাণের হিসাবে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর অর্থের হিসাবে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিকারক প্রধান দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ ছয় দেশ হলো যথাক্রমে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও মেক্সিকো। এসব দেশের মধ্যে ভিয়েতনাম ছাড়া অন্য প্রতিযোগীদের অনেক দিন পর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে পেছনে ফেলেছে। ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) গত সপ্তাহে এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ৭ হাজার ২৭৮ কোটি ডলার মূল্যের মোট ২ হাজার ৩২১ কোটি বর্গমিটার কাপড়ের পোশাক আমদানি করেছে। গত বছর একই সময়ে আমদানি করেছিল ৭ হাজার ৪ কোটি ডলারের পোশাক। অর্থাৎ এক বছরে তাদের পোশাক আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে থাকা চীন আলোচ্য সময়ে ২ হাজার ৬২৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির ৩৫ দশমিক ৯৭ শতাংশই এখন চীনের দখলে।

ভিয়েতনাম ৯০৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাজার হিস্যার ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ হচ্ছে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির।

বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই তৃতীয় অবস্থানে আছে। চতুর্থ ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ৪২২ কোটি ডলার। এবারে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত রপ্তানি করেছে ৩১৬ কোটি ডলারের পোশাক। তারা রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির বাজারে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় চলে যায়। তবে ঠিক এক বছর পর সেই বলয় থেকে বের হয়ে আসে বাংলাদেশ। গত মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অবশ্য ২০১১ সালে এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

যোগাযোগ করা হলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পোশাকের মান ও ডেলিভারির দিক থেকে অন্য প্রতিযোগীদের চেয়ে বাংলাদেশ বরাবরই এগিয়ে ছিল। তবে ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর কর্মপরিবেশ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে একধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। তবে কারখানা পরিদর্শন ও পরবর্তী সংস্কারকাজের অগ্রগতির কারণে ক্রেতারা আবার ফিরতে শুরু করেছে। সে জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হারানো প্রবৃদ্ধি আমরা আবার ফিরে পাচ্ছি।’

সম্প্রতি ভিয়েতনামসহ ১১টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলো কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। এমনটি উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘ভবিষ্যতে টিপিপি নেতিবাচক প্রভাব না ফেললে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’