দুর্গম এলাকায় পৌঁছাবে ইন্টারনেট, বিশ্ববিদ্যালয় বাসে ফ্রি ওয়াইফাই

 

সারাদেশকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিতে ৪টি খাতে ব্যয় করা হবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে’র (এসওএফ) ৭৬০ কোটি টাকা। খাতগুলো হচ্ছে- দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ, ফাইবার অপটিক কানেকশন সম্প্রসারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পরিবহন বাসে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা এবং তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে তরুণদের উদ্ভাবনী প্রকল্প।

গতকাল রবিবার দুপুরে বিটিআরসিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, এসওএফ তহবিলের টাকা তথ্য-প্রযুক্তি সেবার উন্নয়নে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সম্প্রসারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত এবং তরুণদের জন্য গৃহীত প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা একটি সমস্যার সমাধান হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইনের (সংশোধিত ২০১০) ২১ (ক) ধারা অনুযায়ী ২০১০ সালের পহেলা আগস্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) নামের এই ‘তহবিল’ সৃষ্টি করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষ করে ব্রডব্যান্ডের অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নের মাধ্যমে সেবা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে গঠিত এই তহবিলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বার্ষিক রাজস্ব আয়ের এক শতাংশ জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। মোবাইল অপারেটর ছাড়াও সরকার, দেশি-বিদেশি সংস্থা ও বিভিন্ন বৈধ উত্স থেকে পাওয়া অনুদান এই তহবিলে জমার বিধানও রাখা হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী ওই তহবিলে ইতোমধ্যে ৭৬০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। কোন্ খাতে খরচ হবে তা ঠিক না হওয়ায় দীর্ঘদিন এই টাকা অলস পড়ে আছে।