নাজিরপুরে বৃক্ষপ্রেমীর ছাদে ট্যাং ফল

গরমের অস্বস্তি থেকে রেহাই পেতে অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে পান করেন ট্যাং এর শরবত। রমজানের সময় ইফতারিতে কিংবা অতিথি আপ্যায়নেও ট্যাংয়ের শরবতের জুড়ি নেই। সাধারণত আমরা বাজার থেকে ট্যাং এর গুঁড়ো কিনে থাকি।কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন ট্যাং একটি বিদেশি ফল।

সম্প্রতি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী বন্দরে নিজ বাড়ির ছাদে এই ট্যাং ফল ফলিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বৃক্ষপ্রেমী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান। এই ট্যাং ফল দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করছেন সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে। তারা এই ফল গাছ দেখে যাচ্ছেন এবং কিভাবে নিজ বাড়িতে এটি উৎপাদন করা যায় তাও জানছেন।

সিদ্দিকুর রহমান (৭০)সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নিয়ে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী বন্দরে নিজ জমিতে একটি দোতলা ভবন তৈরি করেন।এ বাড়ির ছাদে সিদ্দিকুর রহমান টবে বিভিন্ন ফলের গাছ লাগিয়েছেন।এখান থেকেই তিনি পরিবারের সবার ফলের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।গত বছর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ট্যাং ফলের চারা গাছ এনে বাসার পেছনের মাটিতে রোপণ করেন।লতা সদৃশ গাছটি বড় হতে থাকলে তিনি তা মাচা দিয়ে তুলে দেন বাড়ির ছাদে।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাধারণত ট্যাং গাছে সেপ্টেম্বর মাসে ফুল আসে ও ফল ধরে।কিন্তু তার গাছটিতে এই বছর এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ফুল এসেছে এবং ফল ধরেছে।ফল পরিপক্ক হতে সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস।পাকা ফল দেখতে টক- টকে হলুদ বর্ণের। এ ফলের রস ঠাণ্ডা  পানিতে মেশালে হলুদ রঙের সুগন্ধি শরবত তৈরি হয়।

পরিমিত চিনি মিশিয়ে এ শরবত পান করলে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি মেলে, এটা স্বাস্থ্যসম্মতও।তিনি আরও জানান, ফল দেয়ার পর গাছটির অগ্রভাগ কেটে দেন, আবার নতুন কুশি গজিয়ে ধীরে ধীরে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হয়। সার ও কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিগ্বিজয় হাজরা বলেন, ট্যাং একটি শীত প্রধান দেশের ফল হলেও আমাদের দেশে এটি জন্মে। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ গাছের চারা পাওয়া যায়।যদিও এটির এখনও আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়নি।তবু বৃক্ষপ্রেমীরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে খুব সহজেই বসতবাড়ির ছাদে ট্যাং ফলের  চাষ করতে পারেন।