আনিসুলের পরশে উন্নয়নের সুবাতাস ঢাকা উত্তরে

ছবি: বাংলানিউজেটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)

ঢাকা: নির্বাচন এলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান তারা। এটাই বহুদিন ধরে রাজনৈতিক কালচারে পরিণত হয়ে আসছিল।

কিন্তু রাজনীতির বাইরে থেকে আসা একজন মানুষ, যিনি নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন ‘আমাকে সুযোগ দিন, কাজ করবো’- ভোটের পরও প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি তিনি।

তিনি হলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত কয়েক মাসে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেও ঢাকা উত্তরের বাসিন্দাদের একটু হলেও উন্নয়নের সুবাতাস তিনি দিতে পেরেছেন এমনটিই নগরবাসীর মন্তব্য। গত ৬ মাসে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কারওয়ানবাজার মেইন রোড ও তেজগাঁও টার্মিনাল অবৈধ দখলদার মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করেছেন তিনি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি প্রতিদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে যান গুলশানের অফিসে। এ বাসস্ট্যান্ডটি (আধা কিলোমিটার) পার হতেই তার ঘণ্টা পেরিয়ে যেত। সেখানে এখন ফাঁকা রাস্তা। এর অন্যতম কারণ মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বসিলার নতুন রাস্তায়।

ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যানজটের সমস্যা থেকে মুক্ত হয়েছেন মোহাম্মদপুরবাসী।

আনিসুল হকের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে গাবতলী বাস টার্মিনালকে যানজটমুক্ত করা। আগে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার গাড়িকে রাজধানীর প্রবেশমুখে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো যানজটের কারণে। সেখানে এখন একটি মাত্র ইউ-লুপ করাতেই যানজটমুক্ত হয়েছে গাবতলী।

দীর্ঘ ৩০ বছরে যা হয়নি, তাই করে দেখিয়েছেন মেয়র  আনিসুল হক তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে। যেখানে ছিল মাদকের আড্ডাখানা, সেই তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের অবৈধ স্থাপনা সরাতে গিয়ে কতো না চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে মেয়রকে। কিন্তু সব জটিলতা কাটিয়ে দখলকারীদের হটিয়ে জয় আনিসুল হকের পক্ষেই। দূর হলো অবৈধ স্থাপনা, রাস্তা আটকে থাকা ট্রাকগুলোরও জায়গা হলো ট্রাকস্ট্যান্ডে। একই সঙ্গে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডও করা হয়েছে পরিষ্কার,পরিচ্ছন্ন।

নিকেতনের বাসিন্দা মো. আলিয়ার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন এই এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। রাজধানীর প্রধান সড়কেই ছিল অগোছালো নানা রং, নানা ঢংয়ের বিলবোর্ড। মেয়র আনিসুল হক ঘোষণা দিয়েছিলেন অপরিকল্পিত সকল বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে। গত ছয় মাসে তা করে দেখিয়েছেন তিনি। রাজধানীর উত্তরের প্রায় ২০ হাজার অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে।

মেয়র আনিসুল হকের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল রাজধানী হবে সবুজ এবং বাসযোগ্য। নির্বাচনের আগে আমরা ঢাকা স্লোগানে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘তুমি ঢাকা, আমি ঢাকা,আমরা সবাই মিলে ঢাকা, সবাই মিলে হোক নতুন স্বপ্ন আঁকা, রাজধানী ঢাকা।’

সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজধানীকে সবুজে ঘিরতে উত্তরের প্রতিটি বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন তিনি। ‘গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ (ভলেন্টারি ট্রেনিং) ফুলগাছ ও অন্যান্য গাছ এবং বাড়িতে বাড়িতে সার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মেয়র আনিসুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘কাজ আমি করি নাই,  চেষ্টা করছি, কাজ শুরু করেছি। সবাই একসঙ্গে থাকলে… যেমন সবাই এক সঙ্গে ছিল বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে। সবাই এক সঙ্গে থাকলে ইনশাল্লাহ কোনো সমস্যা হবে না।  মূল সমস্যাগুলো দূর করা হয়েছে। যা ৩০ বছরেও হয়নি’।

রাজধানীর যানজট নিরসনে আগামী জুনের মধ্যে ২২টি ইউ-লুপ নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছেন মেয়র আনিসুল হক। এছাড়াও ঢাকা উত্তরকে সুন্দর ও দর্শনীয় করতে ৫৬টি ফুট ওভারব্রিজকে আগামী মার্চের মধ্যে ফুল দিয়ে সুশোভিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তবে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে মেয়রের বা সিটি কর্পোরেশনের কিছুই করার নেই বলে জানান মেয়র। ‘ওয়াসা যদি কাজ না করে আগামী বছর তার কোনো কিছুই করার থাকবে না’- এ কথা ওয়াসাকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর সামনেই।