স্কুল ব্যাংকিংয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল বাংলাদেশ

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ইউথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনালের’ (সিওয়াইএফআই) ‘কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় লন্ডনে হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। লন্ডন সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারনেস ভ্যালেরি জর্জিনা হওয়ার্থ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জাম বিষয়টি গত রাতে নিশ্চিত করেছেন।
গত রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও উচ্চতর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলো। এটি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাফল্যের আরেকটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক দিকগুলো বিশ্বদরবারে পৌঁছে যাবে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পাঁচ বছরের মাথায় এ পুরস্কার একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় হিসাব খুলেছে। তারা নিয়মিত লেনদেন করছে। এর মাধ্যমে গ্রামের স্কুল পর্যন্ত ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে যাবে।
এর আগে সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রসারের কারণে গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’-এর (এএফআই) পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর সাত ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেয় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সিওয়াইএফআই। এবার ভারত ও ফিজিকে পেছনে ফেলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে এই কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। ২০১১ সাল থেকে ব্যাংকগুলো এই কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৪৯টি ব্যাংক এর আওতায় হিসাব খুলছে। গ্রাম ও শহর মিলে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৫০ হাজার ৩০৩ জন শিক্ষার্থী এর আওতায় হিসাব খুলেছে। তাদের হিসাবে জমা রয়েছে ৭১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।