মেট্রোরেলের মূল কাজ শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে

আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে মেট্রোরেলের মূল কাজ। এ প্রকল্পের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের (সয়েল টেস্ট) কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের ৮টি প্যাকেজের মধ্যে ৬টির দরপত্র আহ্বান এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি দুটি প্যাকেজের দরপত্র ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই আহ্বান করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, মেট্রোরেলে নকশা জটিলতা কেটে গেছে। রুট নির্দিষ্টকরণ করা হয়েছে। পরিবেশগত বিভিন্ন সমীক্ষার ধাপগুলো শেষ হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের মূল কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের আশপাশে বিভিন্ন স্থাপনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য আরেকটি জরিপ চলমান রয়েছে। এটি খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এছাড়া ইউটিলিটি ভ্যারিফিকেশন নামে আরেকটি সার্ভে চলমান রয়েছে। এটিও খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ২০২০ সালে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। তবে তার আগে ২০১৯ সালেই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের মেট্রোরেলের কাজ শেষ হবে। মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ব্যয় হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দিচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল। প্রতি দুই মিনিট পর পর ২৪ সেট আধুনিক এবং দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করবে এ রুটে। প্রতি সেটে থাকবে ছয়টি করে যাত্রীবাহী কোচ। ঘণ্টায় উভয়দিকে ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন স্বল্প সময়ে মানুষ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে, অন্যদিকে রাজধানীর যানজট প্রায় শতভাগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে মনে করে সরকার। চূড়ান্ত নকশা অনুযায়ী মেট্রোরেলের যে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারে থাকবে ১৬টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হচ্ছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব এবং মতিঝিল।