সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান

জাপানের সহায়তা নেয়া ছয় মেগা প্রকল্পে অর্থায়ন অনিশ্চয়তা কাটছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনের পর অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় আটকে ছিল প্রকল্পগুলো। অবশেষে প্রকল্পগুলোর অনুকূলে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। আগামী রোববার এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জাপান সরকারের ৩৬ তম ওডিএ ঋণ প্যাকেজের আওতায় ১০৭ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে জাইকা। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। ইআরডির এক নোটিশে বলা হয়েছে, চুক্তিতে ইআরডির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এবং জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ মিকিও হেতেদা স্বাক্ষর করবেন। অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে একটি বিনিময় নোটও স্বাক্ষরিত হবে। এতে মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন ও জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাটো ওটানাবে স্বাক্ষর করবেন।
ইআরডি সূত্র জানায়, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন সঞ্চালন লাইন শক্তিশালীকরণে দুই হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অর্থ বিভাগের বিদেশী বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার কোটি টাকা, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের পশ্চিমাঞ্চলের সেতু উন্নয়নে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মা, নবজাতক, শিশু স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের নগরে ভবনের ঝুঁকি কমানো প্রকল্পে ৭৬০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা গভর্নেন্স উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা।
এ ঋণের বার্ষিক সুদের হার মাত্র দশমিক শূন্য এক শতাংশ। যা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। সংস্থাটির সুদের হার বাংলাদেশের অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), রাশিয়া, চীনের তুলনায় অনেক কম। আবার ঋণের অর্থের একটি বড় অংশ অনুদান হিসেবে প্রদান করে জাইকা। যা পরবর্তী সময়ে জাপান ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (জেডিএফ) মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জাপান উইংয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন প্যাকেজের আওতায় বড় অঙ্কের অর্থ পেলেও গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা কম ঋণ দিচ্ছে জাইকা। ইআরডি গঙ্গা ব্যারাজসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে আরও অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও সংস্থাটি রাজি হয়নি। দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রস্তাব না থাকায় অর্থায়ন কমতে পারে। তবে জাইকার পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, জাইকার আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতায় আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। জাইকা গত বছর ৩৫তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় পাঁচ প্রকল্পে নয় হাজার ২০০ কোটি টাকা দেয়। সংস্থাটির অর্থায়নে প্রায় অর্ধশত প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে : মেট্রো রেল, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষতা উন্নয়ন, ইনক্লুসিভ সিটি গভর্নেন্স, হাওরের বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং জীবিকার উন্নয়ন, ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কৃষি উৎপাদনের উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্যায়নে অর্থায়ন প্রকল্প।