রোকেয়া পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘বেগম রোকেয়া পদক-২০১৫’ পেয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং কবি তাইবুন নাহার রশীদ (মরণোত্তর)। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই পদক বিতরণ করেন।

নারী শিক্ষা বিস্তার, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তারা দু’জন প্রত্যেকে এককালীন এক লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক ও একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সফল হয়েছে। আজ নারীরা তাদের অবস্থান করে নিতে পেরেছে। যা ছিল বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন। সে সময় এমন অবস্থা ছিল কোনো নারী পড়া-লেখা করছে এটা জানা-জানি হলে বাবা-মাকে পর্যন্ত হেয় প্রতিপন্ন হতে হতো।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন। চাকরির ক্ষেত্রে তিনি মেয়েদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। সব সময় তিনি একটি কথা বলতেন, ‘একটা মেয়ে যখন টাকা আয় করে বাড়িতে ফেরে তখন তার কথার একটা দাম থাকে’। আজ সেই অবস্থা সৃষ্টি করার সুযোগ এসেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোকেয়া পদকের জন্য বিবি রাসেল ও তাইবুন নাহার রশীদের নাম ঘোষণা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজের স্বীকৃতি হিসাবে এই পদক পাচ্ছেন। মডেলিংয়ে ইউরোপে খ্যাতি অর্জনকারী বিবি রাসেল ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পোশাক ডিজাইনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদি ও জামদানি শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯০ সালে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

অন্যদিকে, তাইবুন নাহার ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষায় কবিতা লিখে সরকারের রোষানলে পড়েন। ১৯৭১ সালে দেশে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি ঢাকায় মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেন। এজন্য তাকে নয় মাস আত্মগোপনেও থাকতে হয়েছিল।

১৯১৯ সালের ৫ মে ঢাকা জেলায় জন্ম নেওয়া তাইবুন নাহার ১৯৫৪ সালে খুলনা শাখার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৫-২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।