স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন ফ্রিল্যান্সাররা

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা বাড়াতে ‘আর্ন অ্যান্ড পে’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এক অঙ্কের ঋণের ব্যবস্থাসহ স্বল্প মূল্যে উচ্চগতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। তবে গুগল প্লে স্টোরে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বিক্রির ব্যবস্থা করতে দ্রুত বাংলাদেশে গুগল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা।

গতকাল মঙ্গলবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ফ্রিল্যান্সার্স মিট-২০১৫ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭৭ জন ফ্রিল্যান্সারকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (ডওঞঝঅ) প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো গোতিয়ারেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাকসেঞ্চার জাপানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লাইড উনো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং সভাপতি আহমেদুল হক ববি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান প্রমুখ।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ এবং এই খাত থেকে প্রতিবছর ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। আউটসোর্সিংয়ে আগামী তিন বছরে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের জন্য, বিশেষ করে অ্যাকসেসরিজ কেনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। বর্তমানে পুরুষের তুলনায় নারী ফ্রিল্যান্সাররা বেশি আয় করছেন, তাই আউটসোর্সিংয়ে নারী ফ্রিল্যান্সারের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।’

সান্তিয়াগো গোতিয়ারেজ বলেন, ‘আগামী ২০২১ সালের উইটসা সম্মেলনের আয়োজক হবে বাংলাদেশ। আমি নিজেও একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে জীবনের অনেকটা সময় কাজ করেছি। তাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও সফলতা লাভ সম্ভব।’

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিপুল সংখ্যক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মো. সবুর খান বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই সামগ্রিকভাবে দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় পর্বে টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপস, অনলাইন ব্লগিং ও কনটেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, এসইও ও অনলাইন মার্কেটিং নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী আবু সালেহ মোহাম্মদ কাইসার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের স্বীকৃতি কাজের পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা গুগল প্লে স্টোরে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বিক্রি করতে পারছি না। ভারতে চালু হলেও বাংলাদেশে এখনো গুগল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু হয়নি। আমি সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ আবু সালেহ মোবাইল কল রেকর্ডার, ইজি ব্লকার, টিপস ক্যালকুলেটর, ফাইন্ডারসহ কয়েকটি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানান।

অনুষ্ঠানে এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশনের (অ্যাসোসিও) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, মূল্য প্রতিযোগিতায় আউটসোর্সিংয়ের বাজার দ্রুত স্থানান্তর হচ্ছে। তাই বাজার ধরতে কম মূল্যের পাশাপাশি ভালো মানও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতিও ঠিক রাখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে জ্ঞান অর্জনের প্রতি জোর দেন তিনি।

বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নানা প্রচারণার পরও দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। এখনো পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় আমরা বহু পিছিয়ে আছি।’ ব্যক্তি পর্যায় থেকে আউটসোর্সিংকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফ্রিল্যান্সারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির সভাপতি লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, অনেকেই আউটসোর্সিং করতে গিয়ে খাওয়া, ঘুমের কথা ভুলে যায়। যার প্রভাব তাদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। এমনকি ক্রমেই তারা পরিবারের অন্যদের বিষয়েও উদাসীন হয়ে পড়ে। তিনি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি না করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরামর্শ দেন।