সরকারি চাকরিজীবীদের সহজ শর্তে ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ

সরকারি চাকরিতে মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি চাকরিজীবীদের নৈতিক মনোবল ধরে রাখার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা শহরে সরকারি চাকুরিজীবীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফ্ল্যাট নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এম.বজলুল করিম চৌধুরীকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একজন করে প্রতিনিধি। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ফাহিমুল হক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র জানায়, গত ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাতে ১২০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প, ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা ও তহবিল ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নীতিমালা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, চাকরিতে নতুন প্রবেশকারীদের কাছ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি স্বল্প সুদে কিস্তিতে ফ্ল্যাটের দাম আদায়ের বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রাজউক বিভিন্ন সময়ে যেসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে তার কিছু অংশ সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে সহজ শর্তে ও কিস্তিতে বিক্রির বন্দোবস্ত রাখতে হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে কমিটির সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে পরামর্শ আহ্বান করা হয়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পরামর্শ জমা পড়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর নীতিমালা প্রণয়নে মতামত দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। জমা পড়া পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে কমিটি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিটি নীতিমালা প্রণয়ন চূড়ান্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, একজন চাকরিজীবী তার কর্মজীবন শুরু করার পর সে প্রথমে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার চিন্তা করে। যে কারণে অনেকেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও অসৎ পথে আয়ের চিন্তা করে। আর এ থেকেই দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে তারা। যদি নিয়োগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আবাসনের চিন্তা দূর হয়, তাহলে তার মধ্যে দুর্নীতির ইচ্ছা দূর হবে। সরকারের এ উদ্যোগ ভালো ফল বয়ে আনবে।