রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি

এই ধারা অব্যাহত থাকুকদেশের রপ্তানি খাত তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। সন্দেহাতীতভাবেই বিষয়টি ইতিবাচক। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট খবরের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ১ হাজার ২৮৭ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে রপ্তানি খাতে। আর এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ সেই হিসাব মোতাবেক দেখা যাচ্ছে ৫ মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে।
আমরা মনে করি, দেশের রপ্তানি খাত যখন ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে, তখন তা সামগ্রিক অর্থেই সুখকর। কেননা একটি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনসাধারণের জীবনযাপনের মান নিশ্চিত করার প্রশ্নেও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সঙ্গত কারণেই এ ধারা অব্যাহত রাখতে সার্বিক প্রচেষ্টাও জারি রাখতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে আমরা বলতে চাই, অনেক সময়ই দেখা গেছে যে বাংলাদেশের পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা না পাওয়া একটি বড় ধরনের বাধা। এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশগুলো আরোপিত পদ্ধতিগত নানা বাধা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার খামখেয়ালিপনার সঙ্গে এ দেশের পণ্যমান যাচাইয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়_ এমন অভিযোগও আছে। যার ফলে রপ্তানি অনেক সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এই বিয়ষগুলোকে আমলে নিয়ে যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে, তা সমাধানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের আরো উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলেই আমরা মনে করি। কেননা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংকট রোধ করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরো এগিয়ে যাবে। এছাড়া এটাও ভেবে দেখা সমীচীন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর অন্যতম হলো তৈরি পোশাক। দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, এই খাতে কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের চাপসহ বিভিন্ন সংকট এখনো বিদ্যমান। কারখানার পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা আছে। ফলে আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। কেননা তা নিশ্চিত হলে রপ্তানি আয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলেই প্রতীয়মান হয়।
এবারের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক মাস হিসেবে নভেম্বরে ২৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলার এসেছে রপ্তানি খাতে। এই সময়ে রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ২৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ আয় বেশি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, ইপিবির হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ ধরনের পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে। এর মধ্যে নিটওয়্যার এবং ওভেন মিলিয়ে গার্মেন্টপণ্য থেকেই আয় হয় প্রায় ৮১ শতাংশ। ফলে এই বিষয়টি নিশ্চিত_ যদি রপ্তানির জন্য স্বাভাবিক ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয় তবে সামগ্রিক অর্থেই রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা কঠিন কিছু নয়। আর বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য পণ্য বৃদ্ধিতেও কাজ করতে হবে। এছাড়া অনেক সম্ভাবনাময় শিল্প খাতও বিদ্যমান_ যেগুলোর ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রপ্তানির মাধ্যমে আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, একটি দেশের সার্বিক বিষয়গুলোর সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন জরুরি। আর সেই প্রশ্নে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ফলে রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে আরো পর্যবেক্ষণ করে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।