পাট দিয়ে কৃষকের ভাগ্য বদলের প্রত্যাশা

ফিরছে সোনালী আঁশ পাটের সুদিন। ফিরছে কৃষকের ভাগ্য। যে পাট কৃষকের গলার ফাঁস হতো সে পাটই এবার বদলে দেবে কৃষকের ভাগ্য এমনই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। আজ সোমবার থেকেই সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী শুরু হচ্ছে সরকারের সাঁড়াশি অভিযান। যে ৬টি পণ্য ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সারের মোড়কে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে- তা বাস্তবায়ন করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম অভিযান উপলক্ষে গতকাল রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো মূল্যে পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি বলেন, পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া ছয়টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে ব্যাংকঋণ সুবিধা প্রদান করা হবে না। ইতোমধ্যে তফসিলী ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। চাতাল মিল মালিকগণ পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের লাইসেন্স বাতিল করবে। পাশাপাশি আমদানি ও রফতানিকালে পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইআরসি বা ইআরসি বাতিল করবে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় বাস, ট্রাক, পিকআপে পরিবহনযোগ্য ৫০ কেজির প্লাস্টিক বা পলিথিনের বস্তা ব্যবহার রোধে অভিযান পরিচালনা করব। পরবর্তী সময়ে এক থেকে পাঁচ বা দশ থেকে বিশ কেজির প্লাস্টিক বা পলিথিনের বস্তা ব্যবহার রোধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযান মনিটরিংয়ের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের সমন্বয়ে ১০টি পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।