বিশ্ব একাদশে মুস্তাফিজ

সংবাদ সম্মেলনে আসার পথেই একগাল হেসে হাত দুটি প্রশস্ত করে কিছু একটা বললেন। যাঁর অর্থ হতে পারে, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমার আসার কি খুব দরকার ছিল?’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে বরাবরই মুস্তাফিজুর রহমানের একটু অনীহা। তবে কাল তাঁর সংবাদ সম্মেলনে আসাটা যে ‘জরুরি’ ছিল! ম্যাচের নায়ক তিনি নন। বোলিং ভালো হয়নি। দলও জেতেনি। এমনিতে ম্যাচসেরা কিংবা অধিনায়কেরাই আসেন ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। পারফরম্যান্স যা-ই হোক না, দল জিতুক বা হারুক, কাল মুস্তাফিজকে আসতেই হতো। ছোট্ট এই ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে অনেক অর্জন। তাতে যুক্ত হলো আরেকটি স্বীকৃতি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে জায়গা পেয়েছেন। বিপিএল-উৎসব ছাপিয়ে তাই সবচেয়ে আলোচিত মুখ মুস্তাফিজ।
ম্যাচের আগে গৌরবের এই খবরটা তাঁকে প্রথমে দিয়েছিলেন দলের ম্যানেজার আতহার আলী খান। তখনো হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি মুস্তাফিজ। বুঝলেন ম্যাচ চলার সময়। মাঠেই সতীর্থদের অভিনন্দনে সিক্ত হলেন। বড় পর্দায় বেশ কয়েকবার ভেসে উঠল অভিনন্দনবার্তা। গ্যালারি থেকে ভেসে এল শুভেচ্ছার
অবিরাম করতালি। অনন্য এই অর্জনে মুস্তাফিজের প্রতিক্রিয়া যথারীতি সংক্ষিপ্ত, ‘ম্যাচের সময় সবাই অভিনন্দন জানিয়েছিল। অনেক ভালো লেগেছে। ওপরওয়ালা দিয়েছেন। দেশের হয়ে প্রথম…।’
ভালো লাগবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্রাটা কেমন, সেটা নিশ্চয়ই বলা যায়। এবার মুস্তাফিজের জবাব, ‘বেশি খুশি হওয়ারই কথা। সেরা ১১ জনের মধ্যে আছি। একাদশে বড় বড় খেলোয়াড় আছেন। ছোট হিসেবে তাই বেশি ভালো লাগছে।’
একাদশে যেসব বোলার সুযোগ পেয়েছেন অর্থাৎ মিচেল স্টার্ক, ট্রেন্ট বোল্ট, ইমরান তাহির, মোহাম্মদ শামির তুলনায় মুস্তাফিজ ‘ছোট’ই । ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫—এই সময়সীমার মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজই। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে তাঁকে ‘ছোট’ বলার উপায় নেই। এই অল্প সময়ে এত অর্জন, কীভাবে দেখছেন? স্বভাবসুলভ সারল্যমাখা হাসিতে মুস্তাফিজের প্রতিক্রিয়া আরও সংক্ষিপ্ত, ‘সব সময়ই চিন্তা থাকে ভালো বোলিং করার। দেশের হয়ে কিছু করার।’
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের আগের দিনও নিশ্চিত ছিলেন না খেলবেন কি না। দলে চার পেসার থাকায় তৈরি হয়েছিল এমন সংশয়। তবে সে সংশয় দূর হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। মুস্তাফিজের এমন সাফল্য আপ্লুত করছে মাশরাফিকেও। অধিনায়কের প্রত্যাশা, তরুণ তুর্কির সাফল্যযাত্রা অব্যাহত থাকবে সামনেও, ‘এটা আমাদের সবার জন্য বড় অর্জন। আশা করি, সে এটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। এখানেই শেষ নয়। ইনশা আল্লাহ, টেস্ট একাদশেও সে জায়গা করে নেবে। এত তরুণ বয়সে এত বড় জায়গায় সুযোগ পেয়েছে, এটা পুরো বাংলাদেশের গর্বের ব্যাপার।’
এ আনন্দক্ষণে মাশরাফির অনুরোধ অপ্রত্যাশিত চাপ যেন তৈরি না করা হয় মুস্তাফিজের ওপর, ‘এত কম বয়সে যা অর্জন করেছে, আমরাও আশা করিনি। অনুরোধ থাকবে, ওর ওপর যেন অপ্রত্যাশিত চাপ তৈরি না করা হয়। সে খুবই তরুণ। যদি ১০-১৫ বছর দলকে সেবা দিতে পারে, বাংলাদেশের জন্য এমন কিছু অর্জন করবে, যা আগে কেউ করেনি।’
মুস্তাফিজের অনাগত সেই সাফল্য দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।