পাটের বস্তা ব্যবহারে অভিযান প্রথম দিনে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

পাটের বস্তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে অভিযান শুরু করেছে সরকার। অভিযানের প্রথম দিন ১৬০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ পলিথিনের ব্যাগ জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে পোড়ানো হয়।

এদিকে গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রীদের। অন্যদিকে গতকাল সোমবার কারওয়ান বাজারে এক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, পাটের ব্যবহার নিশ্চিতে অভিযান চলবে। ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে গতকাল থেকে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে সরকার। ২০১০ সালে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’ করা হলেও নানা কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এখন থেকে কেউ পাটের বস্তা ব্যবহার না করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আপাতত ২০ কেজি পর্যন্ত পাটের বস্তা ব্যবহার না করলেও চলবে। পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে আইনে।

কারওয়ান বাজারে অভিযানকালে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করার দায়ে হাজি রাইস ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মির্জা আজম ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দোকানে বিপণন এবং মজুদ পরিস্থিতি জানতে চান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পাটের ব্যাগের বিকল্প ব্যবহারের পরিমাণ খুব কমই পেয়েছেন তিনি। তবে ব্যবসায়ীরা তাঁকে কথা দিয়েছে নতুন করে আর পলিথিন ব্যবহার করবে না তারা। প্রথম দিন বলে জরিমানা কম হারে আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের অভিযানকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো আজও অভিযান চলবে।

সড়ক, মহাসড়ক, চাল উৎপাদনকারী এলাকা এবং ঢাকার প্রবেশমুখসহ সারা দেশে এ অভিযান চলছে। এ অভিযান মনিটরিংয়ের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের সমন্বয়ে ১০টি পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।