আইসিটির আওতাভুক্ত হচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৯ সেক্টর

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্থাপনা ডিজিটাইজড করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) তত্ত্বাবধানে ন্যাশনাল আইসিটি ইনফ্রা নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ফেইজ-২ (ইনফো সরকার) প্রকল্পের আওতাভুক্ত হচ্ছে স্থাপনাগুলো। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আঞ্চলিক কার্যালয়, সাইলো কার্যালয়, ঢাকা রেশনিং, সরকারি ময়দা মিল, সিএমএস, বন্দর/জেটি কার্যালয়, সিএসডি, এলএসডি ও মোটর গ্যারেজ ইত্যাদি স্থাপনাকে কানেকটিভিটির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ছকে মন্ত্রণালয়ে তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ। এতে সার্বিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা একটি কানেকটিভিটির আওতায় এলে প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ডিজিটাইজড হলে সরকারের কোন গুদামে কখন কী পরিমাণ খাদ্যশস্য গ্রহণ, বিতরণ, প্রেরণ ও মজুদ রয়েছেÑ তা মুহূর্তেই জানা যাবে। এতে মজুদ ব্যবস্থাপনায় হিসাবের স্বচ্ছতা আসবে এবং সরকারের খাদ্যশস্যের হিসাবে ত্রুটিজনিত অপচয় রোধ করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ই-সার্ভিসের অংশ হিসেবে মোবাইল ফোনের এসএমএস বা ই-মেইল ব্যবহার করে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষক ও মিলারদের খাদ্য সংগ্রহের তথ্য জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীদের অনুকূলে সরকার কোন প্রকল্পে কী পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছেÑ তাও অনলাইনে জানা যাবে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ এসব তথ্য জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আগামীতে সরকারি বরাদ্দের ‘ডিও’র (ডেলিভারি অর্ডার) সব তথ্য সহজেই জানতে পারবে সাধারণ মানুষও। ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সরবরাহ আদেশের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত জনগণকে জানানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পিএফডিএস (পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) নামে একটি সফটঅয়্যার স্থাপন করা হয়েছে। দেশব্যাপী খাদ্য বিভাগের স্থাপনায় এ সফটঅয়্যার সংস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে খাদ্য বিভাগের ডিও ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সংগ্রহ ও মজুদ অবস্থা, বাজারদর, জনবল, সরবরাহ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়া যাবে।