শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব বান কি মুনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। এ সময় মহাসচিব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসার পর আশা পোষণ করে বললেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনেও বাংলাদেশ আরও বেশী সফল হবে।’

মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের চতুর্দশতম স্থায়ী প্রতিনিধি। বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিচয়পত্র পেশকালে স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মহাসচিব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যেরও প্রশংসা করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনেও বাংলাদেশ আরও বেশী সফল হবে বলে মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন বান কি-মুন। জাতিসংঘের উদ্যোগে আগামী বছরের সাধারণ পরিষদ বৈঠকের অব্যবহিত পূর্বে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য অভিবাসন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করবেন বলে মহাসচিব আশা পোষণ করেন। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে “গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট” এর সভাপতি হিসেবে অভিবাসন ও উন্নয়নে নেতৃত্ব প্রদান করবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের সাথে তার নিজ দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে বাংলাদেশে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এর আগে দায়িত্বপালনকারী স্থায়ী প্রতিনিধিরা ছিলেন এস এ করিম (১৯৭৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর), কে এম কায়সার (১৯৭৬ সালের ১৬ মার্চ), জেনারেল খাজা ওয়াসিউদ্দিন (১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই), বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী (১৯৮৬ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারি), এ এইচ এস আতাউল করিম (১৯৮৮ সালের ১৬ আগস্ট), এ এইচ জি মহিউদ্দিন (১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট), মোহাম্মদ মহসিন (১৯৯১ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি), হুমায়ূন কবির (১৯৯১ সালের ৩০ জুলাই), রিয়াজ রহমান (১৯৯৪ সালের ৬ জুন), এ কে চৌধুরী (১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর), ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী (২০০১ সালের ৬ নভেম্বর), ইসমত জাহান (২০০৭ সালের ১৮ জুন) এবং ড. এ কে এ মোমেন (২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর)।

প্রসঙ্গত: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার জাতিসংঘে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে।