নকশি কাঁথার গ্রাম বদলপুর

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ‘নকশি কাঁথার মাঠ’। কবি তার কবিতায় যেভাবে একটি গ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন ঠিক যেন তারই প্রতিচ্ছবি। রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের নারীরা তাদের নিপুণ হাতে তৈরি করা নকশি কাঁথায় ফুটিয়ে তোলেন নানা রকমের চিত্র। আর সেসব কাঁথার কারুকাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কবির কবিতার বর্ণনার মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া অনেক দৃশ্য। বদলপুর গ্রামের বেশিরভাগ নারী নকশি কাঁথা সেলাই করে বাড়তি আয় করেন। দীর্ঘ ৮ বছর গ্রামটির নারীরা এই নকশি কাঁথা তৈরি করে আসছেন। প্রথমে সংখ্যায় কম নারী এ পেশায় আসলেও বর্তমানে বেশিরভাগ নারী জড়িয়ে পড়েছেন। সংসারের কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে তারা এ কাজ করেন। আর এ কাজের বিনিময়ে তারা যে পরিমাণ মজুরি পান তা দিয়েই সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেন। ১০ বছর আগে তানোর উপজেলার বদলপুর গ্রামের বউ হয়ে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীনগর গ্রামের গোলেনুর বেগম। বিয়ের পর থেকেই তিনি তার বাবার বাড়ি কালীনগর থেকে নকশি কাঁথা এনে কাজ করতেন। সেই শুরু। এরপর থেকে গ্রামের অন্য নারীরা উৎসাহিত হন। বর্তমানে এ গ্রামে কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী শতাধিক নারী এ কাজ করছেন। গোলেনুর বেগম জানান, একটি কাঁথার কাজ শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। একজন একটি কাঁথার কাজ শেষ করে মজুরি পান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তিনি আরও জানান, তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নন। নিজের পুঁজি না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীনগর গ্রামের নকশি কাঁথা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যাবতীয় উপকরণ নিয়ে এসে গ্রামে কাজ করেন।

ওই গ্রামের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা, গৃহবধূ লিপি আরা, সাজিনুর বেগমসহ অন্য নারীরা কাঁথায় সুই-সুতা দিয়ে নকশা তুলতে ব্যস্ত। কাজের ফাঁকে তাদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, অবসর সময়ে তারা এ কাজ করেন। তাতে মাস শেষে একটি কাঁথা শেষ করতে পারলে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পান। যা সংসারের অন্য জিনিসপত্র কিনতে কাজে লাগে। একটি কাঁথায় ৪ থেকে ৬ হাত নকশা ছাপানো থাকে। চাহিদা অনুযায়ী মহাজনরা তাদের নকশা এঁকে দেন। তারা শুধু হাতে সুই-সুতায় নকশা তোলেন।