সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়

দিন দিন দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিশ্ববাজার দখলে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন সিরামিক পণ্য। আর এ সিরামিক পণ্যের মধ্যে টেবল পণ্যেরই এখন বিদেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা। এসব টেবল পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৫০ থেকে ২৫০টি ধরন। পাশাপাশি এইচঅ্যান্ডএম ও মার্কসের মতো নামীদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে দেশীয় সিরামিকস কারখানায়। এসব সিরামিকসের পণ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্তত ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি এসব সিরামিক পণ্য। বিশেষ করে চীনের হাতে থাকা বিশ্ববাজার এখন বাংলাদেশি সিরামিকস দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারিভাবে বিশেষ নজরদারি করা হলে সিরামিকসের বিশ্ববাজার পুরোটাই দখলে নিয়ে আসার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সুইডেন, নরওয়ে, ভারত, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ইতালি, তুরস্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, কানাডা, জাপান, চিলি, আরব আমিরাতসহ অন্তত ৪০টি দেশে বাংলাদেশি সিরামিকসের ডিনার সেট, হাফ সেট (ড্রেজারট সেট), কাপ সসার, চায়ের কাপ, বিভিন্ন ছোট-বড় প্লেট, বিভিন্ন ছোট-বড় বল, টি-পট, মিল্ক-পট, সুগার-পট, বিভিন্ন শোপিসসহ ১৫০ ধরনের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাথর-বালির সমন্বয়ে তৈরি সিরামিকসের বিভিন্ন পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিমুক্ত। সাধারণত অন্যান্য টেবল পণ্যে নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। তবে সিরামিকস পণ্য তৈরিতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি সিরামিকস পণ্যের চাহিদা বেড়েই চলছে। এ কারণেই বিশ্ববাজার দখলে থাকা চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশি সিরামিকস পণ্যের। আর বিশ্ববাজার দখলে নেওয়া হলে একসময় পোশাকের মতো রপ্তানিপণ্যের বাজার দখলে নেবে সিরামিকস। রপ্তানিপণ্যের বাজার দখলে সিরামিকস পণ্যের অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের বাংলাদেশে আসা অনেকটা কমে গেছে। তবে সিরামিকসের পণ্য কিনতে ঠিকই আসছেন বিদেশি বায়াররা। এমনই তথ্য পাওয়া গেল ফার সিরামিকস কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে। ফার সিরামিকস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. শুকুরের রহমান ভূইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কারখানা থেকে পণ্য নিতে জার্মানির দুই বায়ার নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে আসবেন বলে যোগাযোগ হয়েছে। সারোভ সেটি ও হলাউয়ারটস নামের এই দুই জার্মান বায়ার ভারত হয়ে বাংলাদেশের ফার সিরামিকসের কারখানায় আসবেন।’

তথ্যপ্রযুক্তির সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ারদের অনলাইনে বাংলাদেশি সিরামিকসের পণ্য কেনা এখন সহজ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাঁচ-সাতটি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জে মুন্নু সিরামিকস, হবিগঞ্জে আরএকে স্টার সিরামিকস, গাজীপুরের মির্জাপুরে প্যারাগন সিরামিকস, সাভারে শাইনপুকুর সিরামিকস ও গাজীপুরের হোতাপাড়ায় রয়েছে ফার সিরামিকস কারখানা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত ১৫০ থেকে ২৫০ ধরনের পণ্য বিদেশের বাজারে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক চাহিদার। সম্প্রতি গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ফার সিরামিকস কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টেবল সিরামিকসের নানা ধরনের পণ্য উৎপাদনে ব্যস্ত রয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত এসব পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে এ কারখানায়। নাজিম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘এখানে অতি যত্নের সঙ্গে সিরামিকসের পণ্য বানানো হয়। প্রায় প্রতি মাসেই বিদেশি ক্রেতাদের আসতে দেখা যায়। অনেক সময় এসব ক্রেতা কারখানার ভিতরে গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।’

ফার সিরামিকস কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর তাদের অন্তত ১৫০ কোটি টাকার পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। জানা গেছে, সুইডেন, নরওয়ে, ভারত, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ইতালি, তুরস্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, কানাডা, জাপান, চিলি, আরব আমিরাত ছাড়াও ইউরোপের প্রায় সব দেশে রপ্তানি করা হয় বাংলাদেশি সিরামিকসের পণ্য। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে বেশি চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশি সিরামিকস পণ্যের। প্যারাগন সিরামিকসের হাবিজ উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যগুলোর ভারত, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, জার্মানি, চিলিসহ ২০টি দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’