প্রাকৃতিক উপায়ে আইড় মাছের পোনা উৎপাদন

কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই দেশি প্রজাতির আইড় মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক নিয়মে পোনা উৎপাদন করে মাছ চাষিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার সফল চাষি আবদুল জব্বার প্যাদা। মৎস্য বিভাগ তাকে দিয়েছে উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি ও পোনা উৎপাদনের সম্মাননা। তিনি মাছ চাষে মডেল পরিচিতি পেয়েছেন গোটা এলাকায়। তার পরামর্শে এলাকার অনেকেই দেশি প্রজাতির আইড় মাছের চাষ শুরু করেছেন। দূরদূরান্ত থেকেও মাছ চাষিরা আসছেন তার কাছ থেকে আইড় মাছের পোনা সংগ্রহ করতে। আবার কেউ আসছেন বড় আইড় মাছ কিনতে। আমাদের দেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-খাল-বিল ও পুকুরে একসময় প্রচুর আইড় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু পরিবেশ এবং মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে মাছের পর্যাপ্ততা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের ২৬০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছের মধ্যে ১২টি জাত চরম বিপন্ন ও ১৪টি সংকটাপন্ন। এ সংকটাপন্ন মাছের মধ্যে অন্যতম আইড়। দেশি প্রজাতির এ আইড় মাছের চাষ ও প্রাকৃতিক নিয়মে পোনা উৎপাদন করে জব্বার দৃষ্টি কেড়েছেন সবার। আমতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের সফল মাছ চাষি আবদুল জব্বার প্যাদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘১৯৯৫ সালে নিজের জমিতে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করি। প্রথমে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষে সফল হই। পরে ভাবলাম দেশীয় প্রজাতির নদী ও সাগরের মাছ যদি চাষের আওতায় নিয়ে আসা যায় তবে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ- পার্শ্ববর্তী বুড়ীশ্বর নদীর জেলেদের কাছ থেকে প্রথমে চারটি আইড় মাছের পোনা এনে পুকুরে ছাড়ি। এক বছর পর দেখলাম মাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। পরে সে মাছ ডিম দিলে শুরু হয় পোনা উৎপাদন প্রক্রিয়া। আইড় মাছ গভীর পানির হওয়ায় তারা খোঁড়ল (গর্ত) করে সেখানে ডিম পাড়ে। সে ডিম থেকে পোনা আসে। পরে বড় আইড় মাছের পুকুর থেকে পোনাগুলো আলাদা করে অন্য একটি পুকুরে নিয়ে রাখি। সেখানে পোনাগুলো বড় হলে বিক্রিযোগ্য পোনা রেখে বাকিগুলো নিজেই চাষ করি। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও আইড়ের ঘেরসহ আমার এখন ২০টি পুকুর রয়েছে এবং এখানে আটজন কর্মচারী কাজ করেন, যারা এ মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই শুধু ধারণার ওপর ভিত্তি করে কাজ করি, যা খুবই কষ্টসাধ্য। তাই সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে যাতে বিলুপ্তপ্রায় এ আইড় মাছ চাষে আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুস্বাদু এ মাছের জাতটিকে টিকিয়ে রাখা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ পাশাপাশি এ মাছের চাষ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তাও কামনা করেন তিনি। জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আলফাজ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘আইড় মাছটি খুব সুস্বাদু। একসময় এ মাছটি আমাদের নদী-খালে প্রচুর পাওয়া যেত। এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমাদের নেই। বিলুপ্তপ্রায় এ মাছটি চাষে আবদুল জব্বার যাতে সহায়তা পেতে পারেন সে বিষয়ে উপরস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’