সারা দেশে যথাসময়েই হবে পাঠ্যবই উৎসব

প্রতিবছরের মতো এবারো যথা সময়েই হবে পাঠ্যবই উৎসব। প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে বিভিন্ন সময় জটিলতার সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র। মাধ্যমিকের বই ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছে গেছে। তবে প্রাথমিকের বই নিয়ে জটিলতার কারণে টেন্ডার ও কার্যাদেশ দেরিতে হওয়ায় ছাপার কাজ বিলম্ব হয়েছে, তা সত্ত্বেও আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে সব জায়গায় বই পৌঁছবে। এ বছর প্রাথমিকের জন্য বই ছাপানো হচ্ছে প্রায় ১১ কোটি। আর মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরি ও ইবতেদায়ির বই ছাপানো হয়েছে প্রায় ২২ কোটি।
এ বছর প্রাথমিকের বই নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের জটিলতা তৈরি হয়। মূলত সেই কারণেই প্রাথমিকের বই ছাপানোর বিষয়ে টেন্ডার ও কার্যাদেশও দেরিতে হয়। তবে সব জল্পনা-কল্পনা শেষে যথা সময়েই হবে এবারের পাঠ্যবই উৎসব।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের বই মুদ্রণে সম্ভাব্য দর ঠিক করা হয়েছিল ৩৩০ কোটি টাকা। আমাদের দেশীয় ২২টি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ২২১ কোটি টাকা দর দেয় বই মুদ্রণের জন্য; যা এনসিটিবির প্রণীত দরের চেয়ে ১০৯ কোটি টাকা কম। বাজারদরের চেয়েও কম দামে বই ছাপার দর দেয়ায় কাগজের মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। তারা বলেছে এটা অবিশ্বাস্য মূল্য। তারা বইয়ের কাগজ, ছাপা ও বাধাইয়ের মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার চায়। সে অনুযায়ী টেন্ডারের বাইরেও নতুন কিছু শর্তজুড়ে দিয়ে এনওএ ছাড় দেয় বিশ্বব্যাংক। সেখানে বলা হয়েছিল, বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব টিম বই ছাপা-পূর্ব, ছাপার সময় এবং ছাপা-পরবর্তী পরিদর্শন, তদারকি, দেখভাল করবে। ছাপার আগে কাগজের নমুনা, ছাপার নমুনা এবং বই বাধাইয়ের পর বইয়ের নমুনা তাদের কাছে পাঠাতে হবে। ছাপার সময় তাদের টিম আকস্মিক যে কোনো প্রেস পরিদর্শন করতে পারবে। বই ছাপা শেষে উপজেলায় পৌঁছানোর পর তা আবার নিরীক্ষা হবে। ছাপা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হলেই কেবল ছাপার বিল দেয়া হবে। এ ছাড়া মুদ্রণকারীদের জামানত বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার শর্ত দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সূত্রটি বলছে, দেশীয় মুদ্রাকরদের দেয়া মূল্য বিশ্বব্যাংক অবিশ্বাস্য কম মূল্য বলে এলেও ঠিক তা নয়। বরং যৌক্তিক দরই দিয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রণকারীরা। কারণ গত বছর কাগজের ব্রাইটনেস ৮৫ চাওয়া হলেও এবার তা ৮০ চাওয়া হয়েছে।
ফলে সবক্ষেত্রে খরচ কমে এসেছে। আর সর্বনিম্ন দরদাতাদের অবিশ্বাস্য কম মূল্য বলা হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভারতীয় মুদ্রণকারীরাও এবার সেই অবিশ্বাস্য কম দরই দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রণকারীদের চেয়ে তারা মাত্র চার শতাংশ দর বেশি দিয়েছে। চার শতাংশ দর বেশি দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে তাদের পরিবহন ব্যয়, যা আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হবে না। ফলে এবার যে শুধু বাংলাদেশি মুদ্রণকারীরাই কম দর দিয়েছে তা নয়, ভারতীয়রাও দিয়েছে। মূলত এসব কারণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে সরকারের একটু সময় লাগে এবং দেরিতে টেন্ডার এবং কার্যাদেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, এ বছর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক সমজাতীয় সব বই মিলিয়ে প্রায় ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বই ছাপানো হয়ে গেছে এবং সব উপজেলায় বই পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আর প্রাথমিকের টেন্ডার এবং কার্যাদেশ দেরিতে হওয়ায় বই ছাপানোর কাজ একটু দেরিতে শেষ হচ্ছে। তবে আগামী জানুয়ারির আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন বই পৌঁছে যাবে বলে আশা করছি এবং যথা সময়েই আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা। ১ জানুয়ারি যে পাঠ্যবই উৎসব হয় তা যথাসময়েই হবে।