বাণিজ্য ঘাটতি কমছে

দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর এবার নিচের দিকে নামছে বাণিজ্য ঘাটতি। ব্যাংকাররা বলছেন, আমদানি ব্যয় কমে আসায় বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমতির দিকে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তিন মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। তবে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি কমেছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের নিম্নগতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি কমার হার কমেছে। এদিকে আমদানি ব্যয় কমে আসায় এ সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যেও উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে নিম্নগতির পরও আমদানি ব্যয় কমে আসায় লেনদেন হিসাবে উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। এমন অবস্থা বৈদেশিক লেনদেন হিসাবের জন্য অনেকটাই স্বস্তির। তবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতির জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ২ শতাংশে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের জুলাই সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ৩৯৩ কোটি ডলার; যা গেল অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ছিল ৪০১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের সারণি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭৬৪ কোটি ডলার। যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। গেল অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৭৫৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি বাবদ বাংলাদেশের ব্যয় হয় ৯১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার; যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। সে হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গেল অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পণ্য বাণিজ্য ২৪২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঘাটতি ছিল।
গেল অর্থবছরের পুরো সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯৯১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ৬৭৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গেল অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এদিকে গেল বারের মতো এবারও চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত রেখে অর্থবছর শুরু করে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। কিন্তু জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গেল অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক লেনদেন হিসাবের ভারসাম্যে ২৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। এটা বিবেচনায় নিলে লেনদেন ভারসাম্য অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোন ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গেল অর্থবছরের পুরো সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৬৫ কোটি ডলার। যদিও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ সূচকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।