ব্যাংক বিনিয়োগ সমন্বয়ে সময়বৃদ্ধি: আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। এতে সোমবার বাজারের সূচক ও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট বেড়েছে। একইসঙ্গে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪১৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বর্তমানে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বয় করার আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাছাড়া আগে ব্যাংকগুলো তার দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে এটি মূলধনের ২৫ ভাগে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে এমনিতেই শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করলে শেয়ারবাজারের উপর বড় ধরনের চাপ পড়তো বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ ভয়ে বাজারে বড় ধরনের দরপতন শুরু হয়। তাই বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি করেন। এছাড়া পূর্বের মতো ব্যাংকগুলো যেন তাদের দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে সে দাবিও করেন। এ প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় দুই বছর বৃদ্ধি করেন।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজারের স্বার্থে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া ইতিবাচক। এখন বাজারের স্বার্থে ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা না করা হলে বাজার আরও উপকৃত হবে। বর্তমানে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। এমনিতেই দায়ের ১০ শতাংশের পরিবর্তে মূলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাংকের বিনিয়োগের আওতা কমে গেছে। এখন যদি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগও ব্যাংকের বিনিয়োগ ধরা হয় তবে ব্যাংকের বিনিয়োগের আওতা অনেক কমে যায়। তাই এ বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করার দাবি জানান বিনিয়োগকারীরা।