রাডারের আওতায় বিশাল সমুদ্রাঞ্চল

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা চলে এলো রাডারে নজরদারির আওতায়। এই অঞ্চলে ৪০ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে কোনো আকাশযান উড়ে গেলেও তা অজানা থাকবে না। তাৎক্ষণিক তা ধরা পড়ে যাবে রাডারে। এমন শক্তিশালী রাডার স্থাপন করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানঘাঁটিতে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত বিমানগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগও থাকছে এই কক্সবাজার রাডার ইউনিটে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল বুধবার দুপুরে কক্সবাজারে এই অত্যাধুনিক রাডারের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিমানবাহিনীর প্রধান এবং এই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নৌবাহিনীর প্রধান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি এর আগে বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে পৌঁছালে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল আবু এশরার, বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার কমোডর মো. পারভেজ ইসলাম তাঁকে স্বাগত জানান। পরে একটি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

রাডারের আওতায় বিশাল সমুদ্রাঞ্চল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতিকে রাডারটির কার্যক্রম দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে অবহিত করেন, এই রাডারের মাধ্যমে একটি বিমান কত উচ্চতায় থাকছে, কোন দিকে যাচ্ছে- সব কিছুই জানা সম্ভব হবে। এ সময় জানানো হয়, ১৮৫ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে ৪০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে কোনো আকাশযান উড়ে গেলেও তা এই রাডারে ধরা পড়বে। এমনকি কৌশল করে কোনো বিমান নিচু দিয়ে গেলেও তা এই রাডারকে ফাঁকি দিতে পারবে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানসহ সব শহীদকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় যুদ্ধ উপকরণ ছাড়াই কেবল একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার, একটি ডিসি-৩ ও একটি অটার বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুঃসাহসিক বৈমানিকরাই প্রথম বাংলার আকাশসীমায় প্রবেশ করে শত্রুর স্থাপনার ওপর সফল আক্রমণ পরিচালনা করেন, যা ছিল আমাদের বৈমানিকদের অসাধারণ দক্ষতার নিদর্শন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনীর সদস্যদের এই সাহসিকতাপূর্ণ অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রাখবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে সংযোজিত হয় তৎকালীন অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১ এবং পি-১৫, পি-৩৫ ও পিআরভি-২ রাডার। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের আমলে বিমানবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। সরকার এই বাহিনীর সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং পেশাগত নৈপুণ্য বৃদ্ধির জন্য যুদ্ধবিমান ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধ উপকরণ সংযোজনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় আজকের এই ওয়াইএলসি-৬ রাডার সংযোজনের মাধ্যমে বিমানবাহিনী দেশ-জাতির অগ্রগতি ও নিরাপত্তায় আরো সক্রিয় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আবদুল হামিদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান, বিশাল সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা দ্রুত ও সহজতর করা, সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার ২০১১ সালে সমুদ্র উপকণ্ঠে প্রতিষ্ঠা করে বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার। প্রাথমিকভাবে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো রাডার না থাকায় এত দিন এ অঞ্চল সার্ভিলেন্সের আওতাবহির্ভূত ছিল। আমি আশা করি, এই রাডার সমুদ্রাঞ্চল তথা পুরো মহীসোপান এলাকায় টহলরত বিমানগুলোকে সঠিক তথ্য প্রদান এবং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’