গো-খামার বদলে দিলো শিউলির জীবন

স্বাবলম্বী সংগ্রামী নারী শিউলি রানি মোদক। শ্বশুর ও স্বামীর গরু পালনের শখ চিরদিনের মতো ধরে রাখতে ছোট গো-খামার দেখাশোনা ও পরিচর্যা করে সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন শিউলি। তার বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে। তার স্বামীর নাম গোবিন্দ কুমার মোদক।

সরেজমিন শিউলি মোদকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুনসান পরিবেশ। শিউলি মোদকের গোয়াল ভরা গরু, বাছুর। খাবার দেয়ার কাজে ব্যস্ত তিনি। বাড়িতে ঢুকতেই সাংবাদিক দেখে দ্রুত হাত-পা ধুয়ে চেয়ার টেনে বসার ব্যবস্থা করলেন।

শিউলি মোদক বলেন, ১৮ বছর আগে গোবিন্দ মোদকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই স্বামীর বাড়িতে এসে গাভী পালন করা হয়। স্বল্প আয়ের যৌথ কৃষি পরিবার কষ্টে চলতে থাকে। পরিবারে দুটি দেশি প্রজাতির গাভী ছিল। তিনি গাভী দুটিকে যতেœর সাথে লালনপালন করতে থাকেন। গাভী পালনের উৎসাহ দেখে বালিয়াকান্দি উপজেলার তৎকালীন প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানাই লাল স্বর্ণকারের অনুপ্রেরণায় আওয়ামী সরকারের উদ্ভাবিত কৃত্রিম প্রজননের ফ্রিজিয়ান বীজ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের গাভী থেকেই উন্নত জাতের গাভীর বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে। বর্তমানে গাভীর সংখ্যা ১৫টি ও বকনা বাছুর সাতটি। প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। দুধ বহরপুর ও রাজবাড়ী বাজারে বিক্রি করছেন। গরুর খাদ্য হিসেবে পাঁচ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাসের আবাদ করেছেন। খামারে মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা ও ব্যয় ২০ হাজার টাকা। গোবরের লাকড়ি তৈরি করে বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। জৈবসার ও কাঁচা গোবর মাছচাষিদের কাছে বিক্রি করা হয়।

তিনি আরো জানান, গো-খামার করে স্বাবলম্বী হওয়া দেখে পার্শ্ববর্তী প্রশান্ত মোদক, অচিন্ত মোদক, সুনীল মোদক, হবিবর রহমানসহ অনেকেই পরামর্শ নিয়ে গো-খামার করেছেন। তারাও খামার পরিচালনার জন্য নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। অনেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নেপিয়ার ঘাষের চাষ করেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওই পরিবারগুলো।

গোবিন্দ কুমার মোদক জানান, স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির কারণে পারিবারিকভাবে গরু পালন করতে করতে আজ খামারে পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দফতর আন্তরিক ও সহযোগিতা করায় গো-খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। সন্তান দুটি, হাইস্কুলে লেখাপড়া করে। গাভী পালন করে লাভের অর্থ দিয়ে সাড়ে তিন বিঘা জমি কিনেছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামার আরো সম্প্রসারণ করতে পারবেন বলে আশা করেন। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, শিউলি মোদক সফলতার মুখ দেখেছেন। সংগ্রামী নারী হিসেবে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত।