টরেন্টোতে বাংলা টেলিভিশনের মনোমুগ্ধকর মঞ্চ আয়োজন

ভালো শ্রোতার জন্য ভালো গান’!-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে টরেন্টোর বাংলা টেলিভিশনের আয়োজনে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশুদ্ধ সঙ্গীতের এক মনোমুগ্ধকর আসর। টরেন্টোর বাংলা টেলিভিশনের উদ্যোগে অভিজাত ফেয়ারভিউ থিয়েটার হলে এই সঙ্গীতের আসর অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা টেলিভিশন কানাডা’র নিয়মিত মঞ্চ আয়োজনে ‘সুরের ধারা’ সিরিজের এটি ছিলো তৃতীয় পরিবেশনা। পাণ্ডিত প্রসেনজিৎ দেওঘরিয়া ও ড. মমতাজ মমতা- এই দুই শিল্পীকে ঘিরে দুই পর্বে সাজানো এই সঙ্গীত সন্ধ্যায় প্রথম পর্বে ছিলেন ড. মমতাজ মমতা। পশ্চিম বাংলার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিনিকেতন থেকে উচ্চাঙ্গসংগীতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী মমতা ভারতের স্বনামধন্য ডাগর ঘরানার পদ্মভূষণ ওস্তাদ রহিম ফাহিম উদ্দিন খান ডাগর ও তাঁর যোগ্য শিষ্যা শ্রীমতী কাবেরী করের তত্ত্বাবধানে একটানা দশ বছর গুরু-শিষ্য পরম্পরায় ধ্রুপদ সংগীতে তালিম নিয়েছেন। ‘সুরের ধারা’র আয়োজনে তিনি বসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, রজনীকান্ত, অতুল প্রসাদ সেন ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের ঢালি নিয়ে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চে আসেন পণ্ডিত প্রসেনজিৎ দেওঘরিয়া। শুরুতেই তিনি বাগেশ্রী রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন এবং পরপর স্বরচিত তিনটি বন্দিশ গেয়ে শোনান। পণ্ডিত দেওঘরিয়া এরপরেই রাগাশ্রিত-জনপ্রিয় বাংলা গান ও নজরুল গীতি পরিবেশন করেন।

প্রসেনজিৎ দেওঘরীয়া লক্ষ্ণৌর ভাতখন্ডে সংগীত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চাঙ্গসংগীতে এবং এলাহাবাদ হিন্দি সাহিত্য সম্মেলন থেকে হিন্দি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পণ্ডিত দেওঘরিয়া ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম স্তম্ভ ইন্দোর ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ আমির খাঁ সাহেবের সুযোগ্য শিষ্য ড. সুরেন্দ্র শংকর অবস্থি মহাশয়ের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় বহু বছর উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিক্ষা লাভ করেছেন।

আমন্ত্রিত ও পূর্ব নির্বাচিত দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়মে পিনপতন নিস্তব্ধতায় দর্শকরা দুই শিল্পীর গান উপভোগ করেছেন। শিল্পীদের সহযোগিতা করেছেন তবলায় দোলন সিনহা, কি-বোর্ডে মামুন কায়সার, হারমোনিয়ামে শাহজাহান কামাল ও হাসান মাহমুদ, মন্দিরায় রবার্ট বৈদ্য। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন ফারহানা আজিম শিউলী। পরিমিত শব্দ চয়ন এবং স্বল্পকথার উপস্থাপনে ফারহানা আজিম শিউলী অনুষ্ঠানের শ্রোতা ও শিল্পীদের মধ্যে এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরী করে রেখেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানের উপর সঞ্চালকের শ্রুতিনন্দন নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পষ্ট।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলা টেলিভিশনের নির্বাহী কর্মী সাজ্জাদ আলী। তিনি বলেন, “ভাল গান, তৃপ্ত শ্রোতা, শুদ্ধ সংস্কৃতি, বাংলা টিভি’র প্রতিশ্রুতি”-এই লক্ষ্যে পথ চলায় আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। সংগীতের চর্চ্চা ও বিকাশে যাঁরা সহমত পোষণ করেন, বাংলা টেলিভিশন কানাডা তাঁদের সাথে একযোগে কাজ করবে। সাংস্কৃতিক সুস্থতা বিনির্মাণে আমরা সকলের সাহায্য প্রার্থণা করি।

বাংলা টিভিতে প্রচারের লক্ষে পুরো অনুষ্ঠানটির ভিডিও চিত্র তিনটি পৃথক ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওচিত্র ধারণ করেছেন বাংলা টিভি’র ক্যামেরাম্যান গেব্রিয়েল জি. কোনজ ও জ্যানা হক। বাংলা টেলিভিশনের পক্ষে অনুষ্ঠানের স্টীলফটোগ্রাফি করেছেন অঙ্কুর ও বন্যা রুনা লায়লা। শব্দযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দধারণে ছিলেন মার্স জিয়েমবার্কো। অনুষ্ঠানের নেপথ্য কর্মী ছিলেন হাফিজ আল আসাদ, বাবলু হক, বীনা এগনেস সাহা, জন এন. গোমস, নাজমা কাজী, সজীব চৌধুরী, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও সুমু হক।

পুর্ব নির্ধারিত সময় বিকাল ঠিক ৫:৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং রাত ৯:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠানটির নির্বাচিত অংশ শীঘ্রই বাংলা টেলিভিশন কানাডা’র দর্শকদের জন্য প্রচার করা হবে।
– See more at: http://www.bd-pratidin.com/probash-potro/2015/11/03/107431#sthash.JVOHjKoz.dpuf