পুরস্কার এল তুরস্ক থেকে

আর্ট ও আর্কিটেকচার—এই দুই ইংরেজি শব্দের আদ্যক্ষর নিয়ে ম্যাগাজিনটির নাম টু এ। মূলত প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের স্থাপত্যশিল্পের একটা যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে ম্যাগাজিনটি। স্থাপত্যশিল্পে নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে এশিয়ার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়—এই ভাবনা থেকে এর প্রকাশকেরা প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছিলেন ‘এশিয়ান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’। আর তাতে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশের তরুণ স্থপতি জুবায়ের হাসান। এশিয়ার তাবৎ দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ‘কমার্শিয়াল ক্যাটাগরি’তে প্রথম পুরস্কার জিতে নিয়েছে তাঁর প্রকল্প ‘লুম শেড ফর অ্যাম্বার ডেনিম’।
শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? জানতে চাই জুবায়ের হাসানের কাছে। ‘তাঁত দিয়ে কাপড় বোনা বাংলাদেশের বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি। তাঁতি সম্প্রদায়ের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা একটা প্রকল্পের কথা ভাবছিলাম’—বলছিলেন তিনি। স্বল্প খরচে দেশীয় সামগ্রী ব্যবহার করে এই পরিবেশ তৈরি করার চ্যালেঞ্জটাও তাঁরা নিতে চেয়েছিলেন। প্রকল্পে জুবায়েরকে সঙ্গ দিয়েছেন তাঁরই দুই বন্ধু লুৎফুল্লাহিল মজিদ ও নবী নেওয়াজ খান। তিনজনই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক শেষ করে গড়েছেন নিজেদের আর্কিটেকচার ফার্ম—আর্কিগ্রাউন্ড।
বা দিক থেকে জুবায়ের হাসান, নবী নেওয়াজ ও লুৎফুল্লাহিল মজিদ২৭ অক্টোবর রাতে লুৎফুল্লাহিল মজিদ ও জুবায়ের হাসান এসেছিলেন বুয়েট প্রাঙ্গণে। ক্যাম্পাসে বসেই বললেন ব্যতিক্রম এই তাঁতঘরের বিস্তারিত। চারপাশে জলাধার, যার ওপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া বাতাস চলাচলের সুবিধার জন্য পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে বাঁশ দিয়ে তৈরি একধরনের বিশেষ দেয়াল, যা সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর নিশ্চয়তা দেবে, বিদ্যুৎ খরচও কমবে। মাথার ওপর ছাদে ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিটের পরিবর্তে একই খরচের ভেতরে সিমেন্ট-কংক্রিটের ব্লক—সব মিলিয়ে শ্রমিকদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই পুরো পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। থাকবে শ্রমিকদের বা তাঁদের সঙ্গীদের অবসরে হস্তশিল্পের কাজ করার সুযোগ, তাঁদের ছেলেমেয়েদের জন্য তৈরি হবে পাঠশালা। স্বল্প পরিসরে দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে চমৎকার এই নকশা। তাই টু এ ম্যাগাজিনের জুরিবোর্ডের বিচারে কমার্শিয়াল ক্যাটাগরিতে জুবায়ের হাসানরাই জিতেছেন সেরার পুরস্কার।
প্রতিযোগিতা হয়েছিল দুই ভাগে। মোট সাতটি ভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য প্রকল্প আহ্বান করার পর সমগ্র এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৬১৩টি প্রকল্প জমা পড়েছিল। যার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ১৪৭টি প্রকল্প পরবর্তী ধাপে প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত হয়।
দ্বিতীয় ধাপে নির্ধারিত ১৪৭টি প্রকল্প থেকে বিচারকেরা ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য বিজয়ী ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, কমার্শিয়াল ক্যাটাগরিতে প্রথম হওয়া ছাড়াও ‘আরবান/ রুরাল/ ল্যান্ডসক্যাপ ক্যাটাগরি’তে দ্বিতীয় পুরস্কার এসেছে এ দেশের এক স্থপতির হাতে। ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’ নামক এই প্রকল্পের রূপকার কাশেফ মাহবুব চৌধুরী।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ১৬ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের পুরো প্রতিযোগিতার মূল থিম ছিল ‘এশিয়ার সমসাময়িক স্থাপত্যের উত্থান বা অগ্রগতি’।