সুগন্ধি চালের খুদও রপ্তানি হবে

বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে। সরকারিভাবে রপ্তানি হয়েছে সিদ্ধ চালও। কিন্তু চালের খুদ কখনো রপ্তানি হয়নি। এবার অস্ট্রেলিয়ায় সুগন্ধি চালের খুদ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রো লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে খুদ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ওই কম্পানিটিকে সুগন্ধি চালের খুদ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রো বলছে, এক কেজি চাল উৎপাদনে তাদের ২২ থেকে ২৭ শতাংশ খুদ তৈরি হয়। ওই খুদ বর্তমানে পশুখাদ্য ও খিচুরি-তেহারী রান্নায় ব্যবহারের জন্য কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করে দিতে হয়।

রপ্তানি হলে দর মিলবে কেজিপ্রতি ০.৬৫ ডলার বা প্রায় ৫১ টাকা। ইতিমধ্যে তারা অস্ট্রেলিয়ার খুরশিদ ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেডের সঙ্গে এক হাজার টন খুদ রপ্তানির চুক্তি করেছে। ওই খুদ রপ্তানি হবে লিলি ফ্লাওয়ার ব্র্যান্ড নামে।

এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রোর হেড অব বিজনেস অপারেশন মো. দানেশ বিন ওয়ালী কালের কণ্ঠকে জানান, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সুগন্ধি চালের খুদের চাহিদা আছে। আফ্রিকায় সুগন্ধি চালের খুদ কাসাভার সঙ্গে মিলিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন খাবারে এ খুদের ব্যবহার আছে।

দানেশ বিন ওয়ালী আরো বলেন, ‘৫০০ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদন করতে গেলে ৪০ টনের মতো খুদ পাওয়া যায়। রপ্তানির সুযোগ পেলে ওই খুদের দ্বিগুণের বেশি দর পাওয়া যাবে। এতে সুগন্ধি চাল উৎপাদনের খরচ কমবে। ফলে তা বাজারে আরো কম দামে বিক্রি করা যাবে।’

বাংলাদেশ থেকে সাধারণ চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ। সুগন্ধি চালও রপ্তানি নিষিদ্ধ ছিল। তবে সরকার ২০১৩ সাল থেকে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ দিচ্ছে। সর্বশেষ অনুমোদন অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা যাবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে ৫৭ কোটি টাকা আয় করেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ২০ কোটি টাকা বেশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৫ ধরনের চালকে সুগন্ধি চাল হিসেবে গণ্য করে। এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রো জানিয়েছে, তারা দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রোর বছরে চাল উৎপাদন ক্ষমতা ৫১ হাজার টন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ সুগন্ধি চাল। ওই পরিমাণ সক্ষমতা ব্যবহার করে তারা বছরে ২০ হাজার টন সুগন্ধি চাল উৎপাদন করতে পারে। তা থেকে পাঁচ হাজার টন খুদ পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের সুগন্ধি চালের খুদের জন্য আলাদা কোনো এইচএস কোড নেই। তবে সাধারণ চালের খুদের জন্য এইচএস কোড আছে। বাংলাদেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ৬৮ হাজার টন চালের খুদ আমদানি হয়েছে। এসব খুদ সাধারণত মুরগি ও মাছের খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ট্যারিফ কমিশন মনে করে, স্থায়ীভাবে সাধারণ চালের খুদের এইচএস কোডে সুগন্ধি চালের খুদ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না। এ জন্য তাদের প্রতিবেদনে শতভাগ সুগন্ধি ব্রোকেন রাইস নামে আলাদা এইচএস কোড তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রোর খুদ অতিসত্বর রপ্তানির জন্য পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সাধারণ চালের খুদ বা ‘অন্যান্য’ শিরোনামের এইচএস কোডে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। ওই প্রতিবেদনে উৎপাদক বা মিল মালিক ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে চালের খুদ রপ্তানির সুযোগ না দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

এরিস্টোক্র্যাট অ্যাগ্রোর চালের মিল রংপুরের তারাগঞ্জে। তারা দেশে ডায়াবেটিক রোগীদের উপযোগী লো জিআই চালসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত চালের পাশাপাশি সাধারণ চালও বাজারজাত করছে। দানেশ বিন ওয়ালী বলেন, তাঁরা লো জিআই চাল রপ্তানির জন্যও সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।