তৈরি পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে যে খাত একসময় প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল এখন সে খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বে তৈরি পোশাকের একক বাজার চীনের দখলে থাকলেও দেশটি এখন প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করছে। বাংলাদেশ যদি চীনের এ বাজার থেকে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ দখলে নিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার হতে পারে দ্বিগুণের বেশি। ‘টুওয়ার্ডস নিউ সোর্সেস অব কম্পিটিটিভনেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা বাংলাদেশের জন্য সুখবর।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে চীন পোশাক রপ্তানিতে প্রথম এবং রপ্তানি বাজারের ৪০ ভাগ তাদের দখলে। বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় হলেও মোট বাজারের মাত্র ৫ ভাগের কিছু বেশি বাংলাদেশের দখলে। বাংলাদেশ গত বছর মোট ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ও তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি তৈরি পোশাক খাতের সব ধরনের সমস্যা, সংকট ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্য আসন তৈরি করবে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরো প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কাজে সরাসরি উপকৃত হতে পারে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ। রপ্তানির পরিমাণ বাড়তে পারে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।

এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এ শিল্পের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। একসময় যেসব রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তা আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ ফিরিয়ে নিয়েছিল বিদেশি ক্রেতারা।

আমরা মনে করি সবার আগে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ ঠিক করার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে, দিতে হবে শ্রমিকদের সঠিক নিরাপত্তা। কারখানায় সঠিক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে।

কারখানার মালিকরা যাতে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন সরকারকে সে ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ কিংবা শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অসন্তোষ দেখা দিলে সরকারের পক্ষে তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে সুখকর নয়। আমাদের এ শিল্পে কর্মপরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে সাভারের রানা প্লাজায়। এ বিপর্যয়ের ফলে ১ হাজার ১২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং যে আড়াই হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বিপুল অংশ পঙ্গু হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাত যাতে ওই ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে না পড়ে সেদিকেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দিতে হবে।