গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে ডিসেম্বরে

সুবিধার আওতায় আসবে ৩০ লাখ কর্মী, মনিটরিং সেল থাকবে সিটি করপোরেশন ও জেলা-উপজেলায়

আগামী ডিসেম্বরে গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রইালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। মন্ত্রিসভায় এই নীতিমালা অনুমোদিত হলেই এই বিষয়ে আইন তৈরি হবে। আর এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের ৩০ লাখ গৃহকর্মী তাদের মজুরি, কল্যাণ ও অন্যান্য সুবিধা পাবে। দুর্ঘটনায় গৃহকর্মীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে মজুরি পরিশোধ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অসুস্থ হলে নিয়োগকারীর খরচে চিকিত্সা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে নীতিমালায় তাদের মজুরি হার নির্ধারণের কথা বলা হয়নি। লিখিত চুক্তি ও থানায় ছবি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়নি।

 

নীতি বাস্তবায়নে সিটি মেয়র, পৌর মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সুধীসমাজ ও স্থানীয় অধিক্ষেত্রে কর্মরত সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দল গঠন করে পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো যাবে। পরিদর্শনদল নির্যাতন, অশালীন বা অমানবিক আচরণের খবর পেলে পরিদর্শন করবে। দৈবচয়নের ভিত্তিতেও পরিদর্শন করতে পারবে তারা। মনিটরিং সেল থাকবে সিটি করপোরেশন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে।

 

গৃহকর্মে নিয়োজিত সকল ব্যক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণের নিমিত্তে গৃহকর্মকে শ্রম হিসাবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান, গৃহকর্মীদের জন্য শোভন কাজ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্রাম-বিনোদন-ছুটিসহ নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার্থে তাদের স্থায়ী ঠিকানা ও কর্মস্থলের তথ্য হালনাগাদকরণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালায়।

 

বাংলাদেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন গৃহ, মেস, ডরমিটরি প্রভৃতি যে সব কর্মস্থলে গৃহকর্মীগণ পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন গৃহকর্মে নিয়োজিত থাকেন; এ নীতিমালা বিশেষভাবে গৃহকর্মী, নিয়োগকারী ও তার পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্ঘলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এ নীতির মাধ্যমে গৃহকর্মীরা স্বীকৃতি পাবে। তবে গৃহকর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে অবশ্যই আইন করতে হবে। এই নীতি কার্যকর হলে গৃহকর্মী নির্যাতনের মাত্রা কমবে। গৃহকর্মীদের অধিকারের ক্ষেত্রটিও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, মজুরি ঠিক হবে নিয়োগকর্তা ও গৃহকর্মীর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে। পূর্ণকালীন গৃহকর্মীর মজুরি যাতে পরিবারসহ মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের উপযোগী হয় তা নিয়োগকর্তাকে নিশ্চিত করতে হবে। গৃহকর্মীর ভরণপোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হলে তা মজুরির অতিরিক্ত গণ্য হবে। খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর মজুরি কাজের ধরন বা সময় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। গৃহকর্মীর বয়সের ক্ষেত্রে শ্রম আইন-২০০৬ কার্যকর হবে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী গৃহকর্মী নিয়োগ করতে হলে তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হবে। তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে নিয়োগের ধরন, মজুরি, বিশ্রামের সময় ও ছুটি, কাজের ধরন এসব বিষয় ঠিক করতে হবে। ১২ বছর বয়সী শিশুকে নিয়োগ করলে তার পড়ালেখা যাতে বিঘ্নিত না হয় তা বিবেচনায় রাখতে হবে।

 

আরো বলা হয়েছে, সন্তানসম্ভবা গৃহকর্মীর ছুটি হবে ১৬ সপ্তাহ এবং ওই সময় তাকে বেতন দিতে হবে। গৃহকর্মীকে অব্যাহতি দিতে চাইলে বা গৃহকর্মী কাজ ছেড়ে দিতে চাইলে এক মাস আগে জানাতে হবে। তাত্ক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিলে এক মাসের মজুরি দিতে হবে।

 

নীতিমালায় গৃহকর্মীকে নির্যাতন বা গৃহকর্মীর অপরাধ ও অসদাচরণে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশে প্রচলিত আইন প্রযোজ্য হবে। গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতন অথবা শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মামলা সরকারি ব্যয়ে পরিচালিত হবে।