সোনালী ব্যাংকের অফিসার প্রতিবন্ধী নাসিরউদ্দিন

প্রতিবন্ধী হয়েও থেমে থাকেননি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবেরপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী নাসিরউদ্দিন, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে অফিসার পদে সফল চাকরি করে একবছর পর অবসরে যাচ্ছেন তিনি। মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের মরহুম পানু শেখের ছেলে নাসিরউদ্দিন। যখন তার বয়স মাত্র ৫ বছর তখন তিনি পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। চিকিত্সায় জীবন ফিরে পেলেও হারান পা দু’টি। কিন্তু আগ্রহ থাকায় তখন তাকে স্কুলে যেতে উত্সাহ দেন ভবেরপাড়া খ্রীস্টান মিশনের তখনকার ফাদার মারিও, ফাদার মার্তেলো টরগার্তো ও ব্রাদার জোসেফ মার্জেল্লসহ মিশনে কর্মরত সকলে। ওই সময় মা সামছুন্নাহারের কোলে চড়ে ভবেরপাড়া খ্রীস্টান মিশনারী স্কুলে যেতেন। পরবর্তীতে সঙ্গী হয় ৩ চাকার রিকশা।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ভবেরপাড়া খ্রীস্টান মিশনের টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কারিতাস বাংলাদেশ মুজিবনগরের ভবেরপাড়া শাখায় কর্মরত ছিলেন। ৬টি টাইপিস্ট পদের বিপরীতে তিনি সোনালী ব্যাংক, যশোর প্রধান অফিসে ৩ হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন এবং পরীক্ষায় প্রথম হন। ওই সময় প্রতিবন্ধীদের জন্য কোন কোটা না থাকায় তাকে নিয়োগ দিতে কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ আপত্তি করেন।

তবে সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া আঞ্চলিক অফিসের প্রধান বাদশা মিয়ার একান্ত আগ্রহ ও সহযোগিতায় তিনি নিয়োগ পান এবং ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক অফিসের টাইপিস্ট হিসেবে কাজে যোগ দেন। মাত্র এক সপ্তাহ পরে তিনি সোনালী ব্যাংক মেহেরপুর প্রধান শাখায় যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি(প্রাইভেট) পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হন। এরপর ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের অফিসার হিসেবে প্রমোশন পান। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখায় কর্মরত আছেন। সংসার জীবনে তিনি ৩ ছেলের জনক। নাসিরউদ্দিন বলেন, চাকরি করতে তার সমস্যা হয়নি। তাই অবসরে যাওয়ার পর যে কোন একটি কাজ যোগাড় করে নেবেন।