মংলা বন্দরের সম্ভাবনা চিত্র

মংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। মংলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্র্রিক বন্দর। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর বন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বন্দরটি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার পশুর নদী ও মংলা নদীর সংযোগ স্থলে অবস্থিত। ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বন্দরটি বিদেশি জাহাজ নোঙরের জন্য উš§ুক্ত হলে একটি ব্রিটিশ বণিক জাহাজ বন্দরে প্রথম নোঙর করে।

সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মংলা অধিকতর সুবিধাজনক বিধায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি মংলায় স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের উপযোগী গভীরতা হারিয়ে ফেলায় পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ১৯৮০ সাল থেকে বন্দরটি প্রায়ই বন্ধ করে দেয়া হতো এবং প্রতিবারই খননের পর এটি আবার জাহাজ নোঙরের জন্য উš§ুক্ত করা হতো। এ রকম প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতা ভিঙিয়ে বন্দরটি টিকে থাকলেও ১৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে মংলা বন্দর। পশুর নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মংলা খাসিয়াখালী চ্যানেল চালু হওয়ায় অনেকদিন পর মংলা বন্দরে ফের আসতে শুরু করেছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ। এ কারণে ব্যস্ততা বেড়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরটির। সঙ্গত কারণেই বন্দর ব্যবহারকারী আমদানি-রফতানিকারকসহ ব্যবসারীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করছেন বন্দরটিকে ঘিরে। সম্ভাবনার এ হাতছানিতে খুশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। অবশ্যই অত্যন্ত আশা জাগানিয়া সংবাদ এটি। গভীরতা কমে যাওয়া এবং অন্য আরো কিছু কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সমুদ্রবন্দরটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। সেসব দূর করে বন্দরটিকে আরো বেশি ব্যবহার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নতুনভাবে সেখানে অর্থনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষরাও এ কারণে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখছেন। মংলা বন্দরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছিল বহু আগেই কিন্তু সময় মতো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে নানা ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব বহুমুখী হয়ে ওঠে।

মংলা বন্দর সম্পর্কিত যে সংবাদ মানবকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে তা আশাব্যঞ্জক। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দরটি ঘিরে সরকারের যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেসবের যথাযথ বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব বহুমুখী হতে বাধ্য। বন্দরটির সামগ্রিক চিত্র উজ্জ্বল করতে বিলম্বে হলেও সরকারের তরফে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এর জন্য সরকার সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমরা আশা করি, সময় ও বাস্তবতার চাহিদার নিরিখে সরকার মংলা বন্দরের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় সবকিছু দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করবে। এর সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয় জড়িত।